মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল ॥ এমপি রানা ও তার তিনভাই সহ ১৪জন আসামী

225

c2b0a897fda66624d754149de95929ad-33বিশেষ রিপোর্টারঃ
বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিনভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জেলার ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। অপর আসামীরা হলো- আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী, ফরিদ মিয়া, সমির, কবির হোসেন, সাবেক কমিশানার মাসুদ মিয়া, চানে, নুরু, সানোয়ার হোসেন ও দাত ভাঙ্গা বাবু। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪/১২০ বি ধারায় হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আসামী আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী, ফরিদ মিয়া, সমির টাঙ্গাইল জেলহাজতে রয়েছে। বিষয়টি টিনিউজবিডি.কমের এ প্রতিবেদকের কাছে নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মাহফিজুর রহমান।
আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যাকান্ডের তিন বছর ১৫ দিন পর  গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করল। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীদের গ্রেফতার ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
pic-08_176601গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র টিনিউজবিডি.কমকে জানায়, বিগত ২০১৪ সালের ১১ আগষ্ট শহরের বেবীষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় আনিসুল ইসলাম রাজাকে। একই অভিযোগে মোহাম্মদ আলী নামে আরো একজনকে গোয়েন্দা পুলিশ গত ২৪ আগষ্ট গেস্খফতার করে। তারা দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক ১৬৪ ধারায় জবান বন্দি দেন। তাদের জবান বন্দিতে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যাকান্ডে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান কাকন, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা জড়িত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আসামী রাজা জানিয়েছে, ঘটনার দিন (২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি) সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা রাজাকে দায়িত্ব দেন ফারুক আহমদকে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে কলেজ পাড়ায় তার একটি প্রতিষ্ঠানে ঢেকে আনার জন্য। আওয়ামী লীগ অফিসে যাওয়ার সময় পথেই রাজার সঙ্গে ফারুক আহমদের দেখা হয়। রাজা তখন নিজের রিক্সা ছেড়ে ফারুক আহমদের রিক্সায় উঠেন এবং তাকে এমপি রানার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। পরবর্তী সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়া নিয়ে ফারুক আহমদের কথা হয়। এক পর্যায়ে ফারুক আহমেদকে উক্ত পদে প্রার্থী না হওয়ার অনুরোধ করেন। ফারুক আহমদ এতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে ফারুক আহমেদ সেখান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে  পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। এতে অন্যরা তার মুখ চেপে ধরেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে সেখানকার রক্ত মুছে ফেলা হয়। পরে একটি অটো রিক্সায় ফারুক আহমদের মরদেহ নিয়ে আসামী রাজাসহ দু’জন দু’পাশে বসেন এবং ফারুক আহমদের বাসার কাছে ফেলে রেখে আসেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রটি টিনিউজবিডি.কমকে আরও জানায়, বিগত ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে শহরের কলেজপাড়া এলাকার নিজ বাসার কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, জাহিদুর রহমান খান কাকন ও সানিয়াত খান বাপ্পা দেশ ত্যাগ করলেও এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও সহিদুর রহমান খান মুক্তি দেশেই অবস্থান করছেন। ঢাকা ও টাঙ্গাইলে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও পুলিশ তাঁদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার বাদী আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ এর স্ত্রী নাহার আহমেদ টিনিউজবিডি.কমকে বলেন, ‘খুনিরা দেশে থাকলেও পুলিশ কি কারণে তাঁদের গ্রেফতার করতে পারছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’ তিনি রানা ও তাঁর ভাই কাকণ, মুক্তি ও বাপ্পাসহ সকল আসামীকে গ্রেফতার, দলের সব পর্যায় থেকে বহিষ্কার এবং দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর টিনিউজবিডি.কমকে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে যাদের নাম এসেছে তাদের নাম অভিযোগপত্রে দেয়া হয়েছে। যথানিয়মে মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ