মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যার মূল আসামীরা এখনও গ্রেফতার হয়নি

90

c2b0a897fda66624d754149de95929ad-33বিশেষ প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার। হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হলেও পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দিতে পারেনি। তদন্তে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা ও তাঁর ভাইদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এলেও তাঁদের এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ নিয়ে নিহত ব্যক্তির পরিবারে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিগত ২০১৪ সালের ১১ আগষ্ট শহরের বেবীষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় আনিসুল ইসলাম রাজাকে। একই অভিযোগে মোহাম্মদ আলী নামে আরো একজনকে গোয়েন্দা পুলিম গত ২৪ আগষ্ট গ্রেফতার করেছে। তারা দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি দেন। তাদেও জবান বন্দিতে উল্লেখ করা হয়, ফারুক হত্যাকান্ডে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান কাকন, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা জড়িত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, আদালতে দেয়া জবান বন্দিতে রাজা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন (২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি) সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা রাজাকে দায়িত্ব দেন ফারুক আহমেদকে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে কলেজপাড়ায় তার একটি প্রতিষ্ঠনে ডেকে আনার জন্য। আওয়ামী লীগ অফিসে যাওয়ার সময় পথেই রাজার সঙ্গে ফারুক আহমেদেও দেখা হয়। রাজা তখন নিজের রিক্সা ছেড়ে ফারুক আহমেদেও রিক্সায় উঠেন এবং তাকে সংসদ রানার প্রতিষ্ঠানে নিয়ৈ যান। পরবর্তী সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হওয়া নিয়ে ফারুক আহমেদের কথা হয়। এক পর্যায়ে ফারুক আহমেদকে উক্ত পদে প্রার্থী না হওয়ার অনুরোধ করেন। ফারুক আহমেদ এতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কথা বলারি এক পর্যায়ে ফারুক আহমেদ সেখান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। এতে অন্যরা তার মুখ চেপে ধরেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে সেখানকার রক্ত মুছে ফেলা হয়। পরে একটি অটো রিক্সায় ফারুক আহমেদেও মরদেহ নিয়ে রাজা সহ দু’জন দুপাশে বসেন এবং ফারুক আহমেদের বাসার কাছে ফেলে রেখে আসেন।

pic-08_176601
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে শহরের কলেজপাড়া এলাকার নিজ বাসার কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০১৪ সালের আগস্টে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আনিসুল ইসলাম ও আলী নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা দু’জন এ হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা ও তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকণ ও ছাত্রলীগের সে সময়ের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তখন আমানুর রহমান খান রানাসহ ও তাঁর ভাইয়েরা এলাকা ত্যাগ করেন। জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, জাহিদুর ও সানিয়াত দেশত্যাগ করলেও আমানুর ও সহিদুর দেশেই অবস্থান করছেন। ঢাকা ও টাঙ্গাইলে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মামলার বাদী নাহার আহমেদ বলেন, ‘খুনিরা দেশে থাকলেও পুলিশ কী কারণে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’ তিনি রানা ও তাঁর ভাই কাকণ, মুক্তি ও বাপ্পাকে গ্রেপ্তার, দলের সব পর্যায় থেকে বহিষ্কার এবং তদন্ত শেষ করে দ্রুত অভিযোগপত্র দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। খুব তাড়াতাড়ি অভিযোগপত্র আদালতে দেয়া হবে।
ফারুক আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ সকালে দলীয় কার্যালয়ে কোরআনখানি, শোক র‌্যালী, কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিকেলে স্থানীয় শহীদ মিনারে স্মরণসভার আয়োজন করেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ