মির্জাপুর পৌরসভার উন্নয়নে জনগনকে নিয়ে কাজ করতে চাই- মেয়র

170

01এস এম এরশাদ, মির্জাপুরঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভায় নবনির্বাচিত মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাহাদৎ হোসেন সুমন বলেছেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেনের পরামর্শে মির্জাপুর পৌরসভার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মির্জাপুর পৌরসভার উন্নয়ন কাজ করতে চাই। এজন্য তিনি পৌর নাগরিকদের সার্বিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেয়র নির্বাচিত হন।
১৯৭৫ সালের ৩ মার্চ উপজেলা সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামে ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতার নাম খোয়াজ উদ্দিন। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ৫ নম্বর। ১৯৯৩ সালে মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
হলফনামা সূত্রে জানা যায়, গ-অঞ্চল আমলী আদালত (জি আর ৭০(২)০৪, (জি আর ৫৯(০)০৫ ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট গ অঞ্চল টাঙ্গাইল আদালতে (মির্জাপুর থানার মামলা নম্বর ২০, ২৬/০৪/১৯৯৭) পৃথক ৩টি মামলার আসামি থাকলেও আদালত থেকে তিনটি মামলা হতেই তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থানে বিএ পাশ লিখেছেন। পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তার সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কৃষি জমি ৮২.৫০ শতাংশ ও অকৃষি জমি দেকানো হয়েছে ১১.৬ শতাংশ। তার বাৎসরিক আয় কৃষি খাত থেকে ৩০ হাজার ও ব্যবসা থেকে আয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। নিজ নামে জমাকৃত টাকা দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার।
একান্ত সাক্ষাতকারে মেয়র সাহাদৎ হোসেন সুমন বলেন, মির্জাপুর পৌরসভা ২০০০ সালে ‘গ’ শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ২০০২ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মনি জয়লাভ করেন। পৌরসভাটি বর্তমানে ‘খ’ শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর পর ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেন। সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র ও বর্তমান মেয়র শহীদর রহমান শহীদ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে নির্বাচনে তিনি ১৪৩ ভোটে পরাজিত হন। গত ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার আমাকে মনোনয়ন দেন। তিনি এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী পৌর বিএনপির সভাপতি জনপ্রিয় ব্যক্তি হযরত আলী মিঞাকে প্রায় ৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হন।
মেযর পদে শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব নিয়ে পৌরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন পৌরসভা উপহার দিতে চাই। যার সব কিছু থাকবে পরিকল্পনা মাফিক সাজানো-গোছানো। কাজগুলো হচ্ছে- মাদক মুক্ত, নিরাপদ, আলোকিত, পরিছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব বাসযোগ্য আদর্শ পৌরনগরী হিসেবে মির্জাপুর পৌরসভাকে গড়ে তোলা হবে। শ্রেণি বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে নাগরিক মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় মাধ্যমে আধুনিক পৌরসভা গঠন করবো। অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিকতা ও রাজনৈতিক পেশী শক্তির কবল থেকে পৌরবাসীকে মুক্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবো।
সাহাদৎ হোসেন সুমন আরও বলেন, পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে জনগণকে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করে এ খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করবো। পরিকল্পিত উপায়ে পৌর এলাকার স্তুপিকৃত ময়লা-আর্বজনা অপসারণ করা হবে। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে ড্রেনেজ পদ্ধতির ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত গণশৌচাগার, পাবলিক টয়লেটসহ পৃথকভাবে মহিলাদের জন্য টয়লেট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। সর্বত্র নিরাপদ বিশুদ্ধ পানীয় সরবরাহের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ পৌরসভার অন্তরগত সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত সংখ্যক নলকূপ স্থাপন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে নতুন নতুন গণমুখী কর্মসূচি গ্রহণের চেষ্টা করবো।
এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য কর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করার চেষ্টা করবো। পৌর এলাকার গৃহিনীদের সুবিধার্থে গ্যাস সরবরাহের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হবে। সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে সব সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানে নাগরিকদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করবো। তিনি পৌর পিতা নয়, নাগরিকদের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ