মির্জাপুর উপ-নির্বাচনে শুভ’র প্রতি শুভ দৃষ্টি ॥ ইভিএমে শংকা অন্যদের

105

কাজল আর্য ॥
একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৭৩ সালে মির্জাপুরের প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছিলেন ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মির্জাপুরে আওয়ামী রাজনীতির শক্ত ঘাঁটির বীজ বপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ফজলুর রহমান খান ফারুকই। তাঁর একমাত্র ছেলে খান আহমেদ শুভ আগামী (১৬ জানুয়ারির) উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। শুভ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করে তিনি দিনরাত মাঠ চষে রেড়াচ্ছেন। এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক জহির ছাড়া অন্য ৩ জনকে মাঠে তেমনটা পাওয়া যায় নি। ইভিএমের ভোট নিয়ে শংকা রয়েছে অন্য প্রার্থীদের।
রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী শিল্প কারখানা অধ্যুষিত এবং দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার পৈত্রিক নিবাস টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। নির্বাচনে খান আহমেদ শুভর প্রতি সাধারণ মানুষের শুভ দৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে। এদিকে শুভ মনোনয়ন পাওয়ায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী এবং পরীক্ষীত নেতাকর্মীরা মাঠে নিরলস পরিশ্রম করছেন। ১টি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মির্জাপুর উপজেলা। নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গন অত্যন্ত সরগরম। চলছে নানা হিসেব নিকেশ এবং সমীকরণ।
মির্জাপুরে ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৫ বার এবং বিএনপি ৪ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ বার জয়লাভ করেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে টানা ৪ বার এমপি হন প্রয়াত একাব্বর হোসেন। ফলে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একাব্বর হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে উঠে স্থানীয় রাজনীতির শক্তিশালী বলয়। এ উপ-নির্বাচনে একাব্বর হোসেনের স্ত্রী ঝর্ণা হোসেন ও পুত্র ব্যারিষ্টার তাহরিম হোসেন সীমান্তসহ ৯ জন মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
এদিকে সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা এবং সাংবাদিক ফজলুর রহমান খান হয়ে উঠেন জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম ধারক, আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিক। তিনি ধাপে ধাপে জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি হয়ে অদ্যবধি আছেন। বাবার দেখানো পথে হেঁটে খান আহমেদ শুভ মির্জাপুরে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে শক্তভাবে মাঠে নামেন। এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক এবং উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। কর্মী বান্ধব শুভ মির্জাপুরের তরণ যুব সমাজের অন্তরে দ্রুতই পাকাপোক্তভাবে স্থান করে নেন। বঞ্চিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। তার পিতা এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই তাকে আপন করে নিয়েছেন। ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শুভর ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা।
নির্বাচনের শেষ সময়ে সরেজমিনে মির্জাপুরে দেখা যায় মোট ৫ জন প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যেই হবে মূল প্রতিদ্বন্দীতা। অন্যদের মাঠে তেমনটা প্রচার প্রচারণা দেখা নেই।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির গোলাম নওজব চৌধুরী পাওয়ার (হাতুড়ি) টিনিউজকে বলেন, পরিবেশ ভাল। চাই জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করুক। স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরু (মোটরগাড়ি কার) বলেন ইভিএমে ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারসহ আমাদের শংকা রয়েছে। কারণ এতে আমরা অভ্যস্ত নই। বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী (ডাব) নির্বাচন হলেই সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। এ অপরিচিত মুখ তিন সন্তানের জননী এবং তার স্বামী একজন কৃষক। তাকে মাঠে পাওয়া যায় নি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহিরের সমর্থনে জেলার ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি টিনিউজকে বলেন পরিবেশ মোটামুটি ভাল। তবে কোথাও কোথাও আমার কর্মীদের হুমকি ধমকি দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন। বিষয়টি নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। চাই সুষ্ঠু নির্বাচন।
মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ আহমেদ টিনিউজকে বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির বলেন শুভ মনোনয়ন পাওযায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষীত এবং নিষ্ক্রীয় নেতাকর্মীরা আবার চাঙা হয়েছেন। তারা মাঠে নৌকার পক্ষে জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করতেছেন। নাম প্রকাশ না করার মর্তে কয়েকজনে বলেন গোপনে গোপনে কেউ কেউ নৌকার বিরোধিতা করছেন। তবে তারা মাঠে সাড়া পাচ্ছে না।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক আবু নাসের টিনিউজকে বলেন, আমরা জেলার নেতাকর্মীরা স্থানীয়দের নিয়ে একত্রে মাঠে কাজ অনবরত করছি। নৌকা ও শুভর প্রতি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহম্মেদ শুভ টিনিউজকে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। রাজনীতি করি মানুষের জন্যে, কোন চাওয়া পাওয়া থেকে নয়। আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর হিসেবে তার আদর্শ বুকে ধারণ করে সারা জীবন ধরে মানুষের জন্যে কাজ করছেন। আমিও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মির্জাপুরবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। আশা করি মির্জাপুরের মানুষ আমাকে সেই সুযোগ করে দিবেন। দেশরতœকে আসনটি উপহার দিবো। ভোটারদের অভিমত বর্তমান সময় তারুণ্যের। তাই যিনি জনগনকে সময় দিতে পারবেন এবং উন্নয়ন করবেন তিনিই ভোটের মাঠে প্রাধান্য পাবেন। যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে নেই। তাই নৌকার প্রার্থীর প্লাস পয়েন্ট।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান টিনিউজকে বলেন, উপ-নির্বাচনে শতভাগ ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। উপজেলায় ৩ লাখ ২২ হাজার ৬৭৪ জন ভোটার। গত (১৬ নভেম্বর) এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত বছরের (৩০ নভেম্বর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ব্রেকিং নিউজঃ