মির্জাপুরে ৯৯৯ এ ফোন, কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত নারীর কারাদন্ড

293

স্টাফ রিপোর্টার ॥
পাঁচ দিন পর ১৩ বছরের কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল উত্তর পাড়া বিল্লাল মিয়ার বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টম্বর) বিকেলে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। কিশোরীকে আটকে রাখার অপরাধে পুলিশ বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগমকে (৪৮) গ্রেপ্তার করে। পরে ভ্রামমান আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং উদ্ধারকৃত কিশোরীকে বাবার কাছে দেয়া হয়। মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম শুক্রবার (১৬ সেপ্টম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানান, শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম পার্শ্ববর্তী আজগানা গ্রামের ওই কিশোরীর বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় ওই কিশোরিকে দেখে নানান প্রলোভন দিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যান। যাওয়ার পথে তরল পদার্থ জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। বাড়িতে যাওয়ার পর আবারও কিশোরিকে তরল পদার্থ জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। সারারাত ওই কিশোরী অচেতন অবস্থায় ঘুমায়। এভাবে অচেতন করে তাকে পাঁচদিন আটকে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্তর বাড়ির পাশের বাড়িতে টিউবওয়েল স্থাপন করতে আসেন কিশোরীর পরিচিত ব্যক্তিরা। সুযোগ বুঝে ওই কিশোরী তাদের সাথে কথা বলে জানায় অভিযুক্ত সাহিদা বেগম তাকে আটকে রেখেছে। পরে তারা কিশোরীর বাবাকে বিষয়টি জানান।

এ খবর পেয়ে কিশোরীর বাবা ৯৯৯ এ কল দিলে মির্জাপুর থানা পুলিশ বিকেলে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সাহিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। সন্ধায় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বুলবুল তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, অভিযুক্ত নারী সাহিদা বেগম বিভিন্ন স্থান থেকে কিশোরী যুবতী মেয়েদের নানা প্রলোভনে তার বাড়িতে এনে নেশা জাতীয় ও যৌন উত্তেজক দ্রব্য পান করিয়ে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ভ্রামমান আদালতের মাধ্যমে কিশোরীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং অভিযুক্তকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ