মির্জাপুরে ২৩ ঘন্টা পর তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন উদ্ধার

50

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর: দীর্ঘ ২৩ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি রিলিভ ট্রেন এনে মঙ্গলবার (২১ জুন) বেলা পৌনে চারটার দিকে তেলবাহী ট্রেনের দুর্ঘটনাকবলিত ইঞ্জিন ও লাইনচ্যুত হওয়া দুই নম্বর কোচটি উদ্ধার উদ্ধার করা হয়েছে বলে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জিএম অসিম কুমার তালুকদার জানিয়েছেন।
এছাড়া পাকশী বিভাগের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিপিও) মো. আনোয়ার হোসেনকে আহবায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, পাকশী বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) আব্দুর রহিম, বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী আশীষ কুমার মন্ডল ও বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. রাজীব বিল্লাহ। তবে তেলভর্তি পড়ে যাওয়া কোচটি উদ্ধার করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি জানান।
এসময় রেলওয়ে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএফ) মো. শাহিদুল ইসলাম, প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী কুদরত ই খুদা, সিওপিএস শহিদুল ইসলাম, রেলওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সদস্যসহ রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রেলওয়ের শতাধিক কর্মচারী উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
রেলওয়ে মির্জাপুর স্টেশন সূত্র জানান, জয়দেবপুর-বঙ্গবন্ধু রেল সড়কের মির্জাপুরে লাইনচ্যুত হয়ে তেলবাহী ট্রেনের (৯৮১ নম্বর) ইঞ্জিন ও এক নম্বর কোচ সড়ক থেকে লাইনচ্যুত হয়ে ঢালুতে উল্টে পড়ে। এছাড়া রেলের দ্বিতীয় কোচটির দুটি চাকাও লাইনচ্যুত হয়। সোমবার বিকেলে ৫টা ২০ মিনিটের সময় মির্জাপুর স্টেশনের লুপ লাইনের ট্যাপ পয়েন্টের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে ট্রেনের এলেম (লোক মাস্টার) ফিরোজ শাহ সুলতান ও এ এলেম (সহকারি লোক মাস্টার) জিয়াউর রহমান ইঞ্জিনের ভেতর আটকা পড়লে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর এই রেল সড়কে প্রায় ৪০ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
মির্জাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান জানান, তেলবাহী ৯৮১ ডাউন ট্রেনটি চট্রগ্রামের মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড গুপ্তখাল থেকে ১৫টি কোচ নিয়ে রংপুর ডিপোতে যাচ্ছিল। সোমবার বিকেলে সোয়া চারটার দিকে জয়দেবপুর রেল স্টেশন থেকে এলেম (লোক মাস্টার) ফিরোজ শাহ সুলতান ও এ এলেম (সহকারি লোক মাস্টার) জিয়াউর রহমান ট্রেনটি নিয়ে পারবর্তীপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
তিনি জানান, পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা দ্রæতযান একপ্রেস (৭৫৮) ট্রেনটিকে ক্রসিং দেয়ার জন্য তেলবাহী ট্রেনটিকে মির্জাপুর স্টেশনের লুপ লাইনে প্রবেশের সিগন্যাল দেয়া হয়। ট্রেনটি লুপ লাইনে প্রবেশ করার পর ট্যাপ পয়েন্টের কাছে পৌছানোর পর লাল বাতী দেখে এলেম ফিরোজ শাহ সুলতান ট্রেনটি থামানোর জন্য অটোমেটিক ও ইনডেপেন্ডেন্ট ব্রেক করছিলেন। এসময় ব্রেক দুটি কাজ না করায় এ এলেমের পাশে থাকা ব্রেকও ফেল করে ট্রেনটির ইঞ্জিন ও এক নম্বর কোচ লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে ঢালুতে পড়ে যায়। এছাড়া দুই নম্বর কোচটির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয় বলে দুর্ঘটনার পর ট্রেনের এলেম ফিরোজ শাহ সুলতান তাকে জানান। দুর্ঘটনার বিষয়টি রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে তাতক্ষনিক জানানো হয়।
দুর্ঘটনার পর পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা দ্রæতযান এক্্রপ্রেস ট্রেনটিকে মহেড়া স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট সময় বিলম্বিত করানো হয়। তবে তেলবাহী ট্রেনটি লুপ লাইনে লাইনচ্যুত হওয়ায় মেইন লাইন সচল থাকে। সে কারণে দ্রæতযান এক্্রপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্্রপ্রেস ট্রেন দুটি মেইন লাইন দিয়ে পাচিং করাতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্টেশন মাস্টার জানিয়েছেন।
এছাড়া যেহেতু তেলবাহী ট্রেনটি লুপ লাইনে থাকায় মেইন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচলে কোন অসুবিধা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
স্টেশন মাস্টার আরও জানান, রাত দুইটার পর থেকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুটি উদ্ধার ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ চালানো হয়।
ট্রেনের এলেম ফিরোজ শাহ সুলতান জানান, সিগন্যাল পেয়ে লুপ লেনে প্রবেশ করেন। ট্যাপ পয়েন্টের কাছে গিয়ে লাল বাতি দেখে দ্রæত ব্রেক করার চেষ্টা করি। এ এলেম জিয়াউর রহমানের পাশে থাকা ব্রেকও মারতে বলেন। কিন্তু কোন ব্রেক কাজ না করায় ইঞ্জিন ও একটি কোচ উল্টে পড়ে যায়। আমি এবং এ এলেম জিয়াউর রহমান ভেতরে আটকা পড়েছিলাম। স্থানীয় লোকজন আমাদের উদ্ধার করেছে।
মির্জাপুর গ্যাং ১০ এর গ্যাংমেট আব্দুর রাজ্জাক জানান, এলেম নির্দেশনা না মেনেই টেনটি নিয়ে লুপ লেন ছেড়ে ছাওয়ার চেষ্টা করেন বলে তিনি জানান।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জিএম অসিম কুমার তালুকদার জানান, সোমবার রাত দুইটার পর থেকে উদ্ধার কাজ চালানো হয়। ঢাকা ও আখাউড়া থেকে দুটি রিলিভ ট্রেন এনে ল্পু লাইন থেকে পড়ে যাওয়া তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন মঙ্গলবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে লাইনে উঠানো হয়েছে। এর আগে লাইনচ্যুত তেলবাহী দুই নম্বর কোচটি উদ্ধার করা হয়। তবে পড়ে যাওয়া তেলভর্তি ১ নম্বর কোচটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই সড়কে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রেখে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। এতে ট্রেন চলাচল ও উদ্ধার কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

ব্রেকিং নিউজঃ