মির্জাপুরে স্কুলের পাশে ময়লার স্তুপ ও গর্ত ॥ দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ

95

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পোষ্টকামুরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার স্তুপ এবং সামনে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্তুপ করা ময়লা ও গর্তে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া নিজের অজান্তে সৃষ্ট গর্তে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী আহতও হয় বলে জানা গেছে। তাছাড়া ওই রাস্তা দিয়ে পুষ্টকামুরীগ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ নাক চেপে চলাচল করছে বলে জানা গেছে।

আমরা প্রতিনিয়ত সচেতনতামূলক অনেক শ্লোগান, বাণী এবং বক্তব্য শুনি। চলার পথে দেয়ালে, রাস্তায় এবং গাছে গাছে বিভিন্ন সাইনবোর্ডেও দেখে থাকি সচেতনতামূলক অনেক লেখা। দেখে শুনে পড়ে আমরা বাস্তব জীবনে এর কতটা প্রয়োগ ঘটাচ্ছি তাই দেখার বিষয়। যা করতে হবে তা করি না। যে কাজ না করতে অনুরোধ করা হয় তাই আমরা বিবেকহীনের মতো বেশি বেশি করে থাকি। মির্জাপুর পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় উন্মুক্ত স্থানে বাসা বাড়ির ময়লা ফেলার দৃশ্য দেখলেই তার প্রমাণ মেলে।

 

বিগত ২০০০ সালে মির্জাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নিয়ে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। দীর্ঘ ২২ বছরেও এই পৌরসভা এলাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান তৈরি হয়নি। পৌর শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়ির লোকজন যখন যেখানে মনে করেন সেখানেই জনসাধারণের চলাচলের স্থানে ময়লা ফেলছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা অবর্জনা ফেলার স্থায়ী ডাস্টবিন তৈরি না করায় সচেতন হচ্ছে না পৌর শহরে বসবাসকারী অনেক মহল্লার মানুষ। তারা ইচ্ছে করেই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলছেন এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছেন জনসাধারণের চলার পথ। মির্জাপুর বাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উত্তর পাশে অবস্থিত পুষ্টকামুরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ১৫/২০ গজ দূরেই রয়েছে টানা চারবারের প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেনের বাসা। বিদ্যালয়টিতে ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির পাশ দিয়ে রয়েছে পাকা সড়ক। ওই সড়ক দিয়ে পোষ্টকামুরী গ্রামসহ পৌর এলাকার ও আশপাশের ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে থাকে। এছাড়া বিদ্যালয়টির আশপাশে কয়েকটি বহুতল ভবন ও বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে সওদাগড়পাড়া রয়েছে।

 

বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের দেয়াল ঘেষে নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন। ওই ড্রেন দিয়েই ময়লাযুক্ত পানি বের হচ্ছে। এছাড়া ওইসব ভবনের ভাড়াটিয়া ও সওদাগড়পাড়ার লোকজন বিদ্যালয়টির মূল ভবনের উত্তর পাশে দেয়াল ঘেষে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় অবাদে ময়লা ফেলছেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের দেয়ালে লিখে দিয়েছেন এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ। কে শুনে কার কথা। তারপরও থেমে নেই ময়লা ফেলা। প্রায় এক মাস আগে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বৃষ্টির পানিতে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই গর্তে ময়লা আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধূলার সময় অসাবধানতায় ওই গর্তে গিয়ে পড়ে আহতও হচ্ছে। বিদ্যালয় চলাকালীন সময় কাকসহ বিভিন্ন পশু পাখি ওইসব ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলছে। ময়লার স্তুপে ভিন ভিন করছে মশা-মাছি। মশা-মাছির যন্ত্রণায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এসব ময়লার দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ে অবস্থান কষ্টকর হচ্ছে বলে প্রধান শিক্ষিকা শরফুন্নেছা খানম জানান। এছাড়া জনসাধারণ দুর্গন্ধময় ওই সড়ক দিয়েই চলাচল করছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীরা টিনিউজকে জানায়, ময়লার গন্ধে ক্লাস রুমে থাকা কষ্ট হয়। তাছাড়া ক্লাস রুমে মশা ও মাছির উৎপাত বেড়ে গেছে। আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম মাদরাসার অফিস সহকারী হায়দার আলী টিনিউজকে জানান, ময়লার দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উৎপাতে এলাকায় থাকা খুবই কষ্টকর। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক মাহবুব হোসেন, নারায়ন চন্দ্র সাহা, শিক্ষিকা জিনাত জাহান জুই, মাহবুবা হেলেন, আফরোজা আক্তার, শুকলা বসু টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়টিতে ১৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকা রয়েছে। শিশু শ্রেণিতে ৪৫, প্রথম শ্রেণি ৮৮, দ্বিতীয় শ্রেণি ১২৭, তৃতীয় শ্রেণি ১৬৭, চতুর্থ শ্রেণি ১৬৯ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ১৮৮ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেষে আশপাশের বাসাবাড়ির লোকজন নিষেধ উপেক্ষা করেই বিদ্যালয় ঘেষে সড়কের উপর ময়লা ফেলছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যালয়সহ আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রখর রোদে ময়লার দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায়। এতে বিদ্যালয়ে থাকা দুস্কর হয়ে উঠে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তারা উল্লেখ করেন

 

সদরের বনিক পাড়া নরেশ তরফদারের বাসার দেয়ালে লেখা আছে এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ, ফেললে ২০০ টাকা জরিমানা। সেখানেও ওই মহল্লার বাসা বাড়ির লোকজন অবাদে ময়লা ফেলছেন। ইউনিয়ন পাড়া এলাকায় জুলহাস মিয়ার বাসার সামনে অবাদে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এছাড়া থানা রোডের পাশে কৃষি বিভাগের পিপি গোডাউনের সামনে বাসা বাড়ির ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কের উপর জনসাধারণের চলার পথে এসব ময়লার দুর্গন্ধ পরিবেশের ক্ষতি করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

পুষ্টকামুরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শারফুন নেছা খানম টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের পাশে বাসা বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিরদেরকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। তারপরও ময়লা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না। এতে শিক্ষকসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্গন্ধে ক্লাসে বসে পাঠদান করা দুষ্কর হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুলের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ধরেননি।
এ ব্যাপারে পৌরসভার সদর তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আজম সিদ্দিকী টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ড্রাম রাখা আছে। ওই এলাকার জনসাধারণের সচেতনতার অভাব রয়েছে। তারা ড্রামে ময়লা না ফেলে স্তুপ করে ফেলছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ