মির্জাপুরে সার সঙ্কটে সরিষা আবাদে শঙ্কায় কৃষকরা

66

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চরম সার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কোন ডিলারের ঘরেই নেই সার। উপযুক্ত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও কৃষক রবি ফসলের আবাদ শুরু করতে পারছেন না। বিশেষ করে মৌসুমের অন্যতম রবি ফসল সরিষার আবাদ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছে মির্জাপুরের কৃষক। ভরা মৌসুমে কেন এই সার সঙ্কট, কৃষকের এ প্রশ্নের কেউ সদুত্তর দিতে পারছেন না। ডিলাররা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। বরাদ্দের ছাড় পেতে বিলম্ব ছাড়াও ডিও বা টাকা জমা দেয়ার পরও সারের সরবরাহ পাচ্ছেন না। এছাড়া হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটসহ সার সঙ্কটের নানা কারণের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ডিলাররা।
রবি মৌসুমে জেলার মধ্যে মির্জাপুর হলো সরিষা আবাদের জন্য অন্যতম। এবারও এ উপজেলায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে গম, আলু, ভুট্টা, মসুর, পেঁয়াজ ও খেসারি আবাদ। সাধারণত কার্তিকের প্রথম দিকে কৃষক জমি পরিষ্কার করে চাষ দিয়ে জমি জাত করেন। তারপর নিয়ম মাফিক সার প্রয়োগ করে বীজ ছিটান। কিন্তু এ বছর জমির জো (অপটিমাম ময়েশ্চার) শেষ হয়ে যাওয়ার পথেও সার সঙ্কটের কারণে জমিতে বীজ ছিটাতে পারছেন না কৃষক। হঠাৎ সার সঙ্কটের কারণে সরিষাসহ রবি আবাদ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন মির্জাপুরের কৃষক। উপজেলা সদরের পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক খোরশেদ টিনিউজকে বলেন, খেত জাত করে বসে আছি। আমার খেতের রস (জো) শুকিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তিনদিন ঘুরেও কোন সার পাচ্ছি না। ফলে জমিতে তিনি সরিষা বীজ ছিটাতে পারছেন না বলে জানান। একই কথা জানালেন ওই গ্রামের আবুল কালাম।
ভাওড়া গ্রামের কৃষক দেওয়ান মোহাম্মদ বাবুল টিনিউজকে বলেন, ১৯০ শতাংশ জমিতে সরিষা ও ২০ শতাংশ জমিতে আলু আবাদের জন্য জমি চাষ করে বসে আছি। আমার ৪ বস্তা এমওপি, ৩ বস্তা ডিএপি ও ৩ বস্তা ইউরিয়া সারের প্রয়োজন। ঘুরেও কোন ডিলারের ঘরে সার পাচ্ছেন না বলে তিনি জানান। উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
মির্জাপুর উপজেলা ডিলার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন টিনিউজকে বলেন, সার উত্তোলনের ছাড়পত্র পেতে বিলম্ব ছাড়াও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় মির্জাপুরে সার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করছে বলে তিনি জানান।
মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল বিএডিসি গুদাম বন্ধ রাখায় ডিলাররা সার সরবরাহ নিতে পারেননি। যার জন্য মির্জাপুরে সারের সাময়িক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এছাড়া পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় বেশি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ