মির্জাপুরে সাজাপ্রাপ্ত সেই সাহিদার বাড়িতে চলতো দেহ ব্যবসা

236

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কিশোরীকে অচেতন করে ৫ দিন আটকে রাখার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত সাহিদা বেগমের বাড়িতে প্রতিনিয়ত চলতো অবৈধ দেহ ব্যবসা। এলাকার সহজ সরল কিশোরী যুবতী মেয়েদের নানান প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতেন বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। সাহিদা বেগম উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল উত্তর পাড়ার বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী।

জানা গেছে, এই দম্পতি ছিল উপজেলার শিল্পাঞ্চল এলাকার গোড়াই সৈয়দপুর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা। গত তিন বছর আগে তারা আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের ওই নির্জন স্থানে বসতি স্থাপন করেন। ওই এলাকায় বসতী স্থাপন করে এলাকার সহজ সরল কিশোরী যুবতী মেয়েদের নানান প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যৌন উত্তেজক পানীয় পান করিয়ে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেন।

৯৯৯ থেকে কল পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাহিদা বেগমের বাড়ি থেকে পাঁচদিন ধরে আটকে রাখা এক কিশোরীকে উদ্ধার করে। পুলিশ সাহিদা বেগমের ঘরের পেছন থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধের খোসা ও নেশা জাতীয় দ্রব্যের খালি বোতল উদ্ধার করেছে। পরে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সাহিদা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারদন্ড দেওয়া হয়।

 

বেলতৈল গ্রামের লালন মিয়া টিনিউজকে বলেন, সাহিদা বেগম মাঝে মধ্যেই নানা প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার সহজ সরল মেয়েদের তার বাড়িতে আটকে রাখতো এবং অবৈধ দেহ ব্যবসায় বাধ্য করত। তবে লাজ লজ্জার ভয়ে কেউ তা প্রকাশ করতেন না বলে তিনি জানান। একই এলাকার মজিদ মিয়া টিনিউজকে জানান, সাহিদা বেগম এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকায় গোড়াই এলাকার গুচ্ছ গ্রাম থেকে চলে আসে বলে আটকের পর জানতে পেরেছেন। তার বাড়ির চারপাশ থেকে যৌন উত্তেজক ওষুদের খোসা ও নেশা জাতীয় দ্রব্যেও খালি বোতলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজগানা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বেলতৈল গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম সরকার টিনিউজকে জানান, ওই মহিলার আগাগোড়াই খারাপ। নির্জন স্থানে নির্মিত তার বাড়িতে কোন টয়লেট নেই। তার ঘরের পেছন থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধের খোসা এবং বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্যের খালি বোতল পাওয়া গেছে। এসব কিছু পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করেছেন বলে তিনি জানান।

আজগানা ইউপি চেয়ারম্যান কাদের সিকদার টিনিউজকে বলেন, ওই মহিলা এই অবৈধ দেহ ব্যবসার সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত বলে এলাকার লোকজন তাকে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম টিনিউজকে বলেন, সাজাপ্রাপ্ত সাহিদা বেগম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে অন্তত এক বছর এলাকার মানুষ শান্তিতে থাকবে।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ