মির্জাপুরে মা ও তিন মেয়ে পুড়িয়ে হত্যার ৩ বছর ॥ থেমে আছে বিচার কাজ

2

মির্জাপুর সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঘরের ভেতর পেট্রোল ঢেলে মা ও তিন মেয়েকে পুড়িয়ে মারার চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কাজ থেমে গেছে। জামিনে বেড়িয়ে কতিপয় আসামী উচ্চ আদালতে আপিল করলে আদালতের স্থগিতাদেশে মামলাটির বিচার কাজ থেমে যায় বলে মামলার বাদী মোফাজ্জল হোসেন টিনিউজকে জানিয়েছেন।
এদিকে মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক এই ঘটনার তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও বিচার শুরু না হওয়ায় মামলার বাদী ও নিহতদের পরিবারে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মির্জাপুর উপজেলার সোহাগপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম ও তিন মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী মনিরা আক্তার (১৪), বাক প্রতিবন্ধী মীম (১১) ও নার্সারীর ছাত্রী মলিকে (৭) বিগত ২০১৪ সালের ৭ অক্টোবর ইদুল আযহার রাতে ঘরে পেট্রোল ঢেলে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে হত্যা করে একই গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা। ঘাতক জাহাঙ্গীর ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এক রিকসাওয়ালাকে দিয়ে স্থানীয় মাছরাঙা ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৩০ লিটার পেট্রোর কিনে আনে।
ঘটনার পরদিন হাসনা বেগমের ছোট ভাই মোফাজ্জল হোসেন জাহাঙ্গীরকে প্রধান করে ১০ জনের নামে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার তৎকালীন এসআই শ্যামল দত্ত তদন্ত শেষে গত ২০১৫ সালের (২৫ ফ্রেরুয়ারি) জাহাঙ্গীর ও তার চাচাত ভাই নূর মোহাম্মদ নিপু এবং ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ চার কর্মচারীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে বাদী নারাজি দিলে কোর্ট মামলাটি সিআইডিতে প্রেরণ করেন। সিআইডি তদন্ত শেষে গত ২০১৫ সালের (৩ ডিসেম্বর) চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনে ৬ আসামীর সঙ্গে আরও দুই আসামীর নাম যুক্ত করা হয়। এদিকে মামলার আসামী নূর মোহাম্মদ নিপু কোর্টে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। এতে হারুন অর রশিদ নামে একজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সে জবানবন্দীতে জানিয়েছে। সিআইডির প্রতিবেদনে হারুন অর রশিদের নাম ছিল না। পরবর্তীতে কোর্ট গত ২০১৬ সালের (১৬ জুন) চার্জ গঠনের মাধ্যমে হারুন অর রশিদকে মামলায় অভিযুক্ত করে বিচার কাজের জন্য সাক্ষী গ্রহনের আদেশ দেন। মামলাটি টাঙ্গাইল জর্জকোর্টের এডিশনাল-১ এর বিচারক আবুল মুনসুর আহম্মেদের আদালতে বিচারাধীন আছে। কিন্তু এই আদেশের বিরুদ্ধে হারুনসহ কতিপয় আসামী হাইকোর্টে (উচ্চ আদালতে) আপিল করলে আদালত মামলাটির উপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। এতে দেশের এই আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলাটির বিচার কাজ থেমে যায়। প্রধান আসামী জাহাঙ্গীর জেলহাজতে থাকলেও অন্য সব আসামী জামিনে বেড়িয়ে এসেছে।
মা ও তিন মেয়ে পুড়িয়ে হত্যার মামলার বাদীর নাম মোফাজ্জল হোসেন। তিনি হাসনা বেগমের ছোট ভাই। এক প্রতিক্রিয়ায় বাদী মোফাজ্জল হোসেন টিনিউজকে বলেন, আমি কিছু বুঝতে পারছিনা। দেশে অনেক ছোট ঘটনার বিচার হচ্ছে। কিন্তু এত বড় মর্মান্তিক ঘটনার বিচার কাজ স্থগিত হয় কিভাবে ? তিন বছর হয়ে গেল স্বাক্ষীই হলো না। আমরা বারবার স্বাক্ষী নিয়ে যাই কিন্তু স্বাক্ষী হয় না। তিনি টিনিউজকে আরও বলেন, এক আসামী বাদে সব আসামী জামিনে বেড়িয়ে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এত বড় একটি মামলা কতিপয় আসামীর আপিলে বিচার কাজ স্থগিত হয়ে যাবে ভাবতে অবাক লাগছে। আমরা কি তাহলে বিচার পাব না? এই হৃদয় বিদারক মামলাটির বিচার কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানান মামলার বাদী মোফাজ্জল হোসেন।
মামলার আইনজীবী টাঙ্গাইল জর্জকোর্টের সহকারী পিপি এডভোকেট মনিরুল ইসলাম খান টিনিউজকে বলেন, মা ও তিন মেয়ে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় দেশবাসী স্তম্ভিত হয়েছিল। মামলাটিতে বারবার স্বাক্ষীর তারিখ পড়েছে। কিন্তু হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় স্বাক্ষী হচ্ছে না। এত বড় একটি মামলার বিচার কাজ যদি থেমে থাকে তাহলে আইনের প্রতি বিচার প্রার্থী বিশ্বাস হারাতে পারেন। মামলাটির বিচার কাজ ত্বরানিত করার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

 

ব্রেকিং নিউজঃ