মির্জাপুরে মাদকাসক্ত ছেলেকে সাজা দিতে মায়ের করুন আকুতি

88

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
স্যার স্যার আমার পুলাডা যানি তিন বছরের আগে বাইর হতে না পারে। বাইর হইলে আমারে খুন করবো। ওর যন্ত্রণা আর নির্যাতন আর সহ্য হচ্ছে না। এভাবেই ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে মাদকাসক্ত ছেলের যন্ত্রণা আর নির্যাতনে ক্ষত-বিক্ষত মা রিজিয়া বেগম এমন আকুতি জানাচ্ছিলেন। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে তার মাদকাসক্ত ছেলেকে জেলে আটকে রাখার আকুতি জানান।




রিজিয়া বেগম মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের নাজিরপাড়া গ্রামের মৃত টুকু মিয়ার স্ত্রী। গত দুই বছর আগে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর কোনভাবে একমাত্র ছেলে শাহিন মিয়াকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে ছেলে শাহিন (২০) মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। শাহিনের স্ত্রী স্থানীয় একটি পোষাক কারখানার শ্রমিক। প্রতিদিন শাহিনের ৫০০ টাকার মাদক লাগে। এই টাকা না পেলেই স্ত্রীর ওপর চলে অমানষিক অত্যাচার। কোন কোন সময় ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে মারধর ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়া ঘরের থালাবাসনসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে বিক্রি করে মাদকের টাকা যোগায়। মাদকাসক্ত এই ছেলের কারনে পরিবারটি অশান্তিতে ভুগছে। অবশেষে মায়ের এই করুন আকুতিতে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মাদকাসক্ত শাহিনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।
শুধু রিজিয়া বেগমই নন, আরেক মা মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেত্রী মমতাজ বেগম তার মাদকাসক্ত দুই ছেলেকে অনেক চেষ্টা করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক বছর করে কারাদন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, অভাব অনটনের সংসার হওয়া সত্বেও দুই ছেলেকে মাদকের জন্য প্রতিদিন এক হাজার করে টাকা দিতে হত।




মির্জাপুর উপজেলার হাটুভাঙ্গা এলাকার মৃত সমেজ মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (২৭) এবং দেওহাটা গ্রামের ফারুক সিকদারের চেলে মজনু মিয়াকেও (২৮) তাদের পবিারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এক বছর করে কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক।
শুধু শাহিন, মোজাম্মেল কিংবা মজনুর পরিবারই নয়, মাদকের কড়াল গ্রাসে এভাবে উপজেলার অসংখ্য পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। গত ছয় মাসে উপজেলায় অসহায় পিতা-মাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমান আদলেতের বিচারক ৮৫ জন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডে দিয়েছেন বলে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা গেছে।




মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম টিনিউজকে বলেন, মাদকের এই সমস্যা শুধু মির্জাপুরে নয়, সারা দেশেরই সমস্যা। সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে একটি সামাজিক জাগরন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকলে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে তরুন ও যুব সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বুলবুল টিনিউজকে বলেন, মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচারে অনেক নিরীহ পিতা মাতা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুইজন করে অভিভাবক তাদের মাদকাসক্ত সন্তানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নিয়ে আসছেন।




টাঙ্গাইল জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিরচালক বিপ্লব কুমার মদক টিনিউজকে বলেন, মাদক সম্পর্কিত তথ্য পেলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করি। ডিসেম্বর মাসে মির্জাপুরে দুটি মাদকের মামলা হয়েছে। মাদকাসক্ত সন্তানের অভিভাবক আমাদের কাছে আসলে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠাতে সহযোগীতা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ