মির্জাপুরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ ফার্মেসী

157

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিভিন্ন অলিগলি, হাট বাজারসহ পাড়া-মহল্লায় ব্যাঙের ছাতা মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ ফার্মেসী। নিয়মনীতি না মেনেই এসব ফার্মেসীতে দীর্ঘ দিন ধরে নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মেয়াদ উত্তীর্ন ঔষধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের এক শ্রেণীর মালিক ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগসাজস করে এসব ফার্মেসীর মালিকরা মোটা অংকের কমিশনের অনুমোদনহীন ঔষধ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঔষধ কিনতে এসে সর্বশান্ত হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনরা।
বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত (১৯ সেপ্টেম্বর) ৬ ফার্মেসীর মালিককে প্রায় তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারক মইনুল হক। উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ রোডে অভিযান চালিয়ে এই ৬ ফার্মেসীর মালিককে জরিমানা করেছেন বলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিস সুত্র জানিয়েছেন।
মির্জাপুর পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলা সদরের মসজিদ রোড, কাঁচা বাজার রোড, কালিবাড়ি রোড, বংশাই রোড, বাওয়ার কুমারজানি রোড, পুরাতন বাস স্টেশন, মির্জাপুর সাহাপাড়া বাবু বাজার এবং কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে অন্তত শতাধিক ফার্মেসী গড়ে উঠেছে। এছাড়া সদরের বাহিরে মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার এবং অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ফার্মেসীর দোকানে দীর্ঘ দিন ধরে নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং মেয়াদ উত্তীর্ন ঔষধ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্ররা। টাঙ্গাইল জেলা কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সুত্রে গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় তিন শতাধিক ফার্মেসী রয়েছে। এসব ঔষধ ফার্মেসীর দোকানের মালিকদের অধিকাংশের নেই কোন প্রশিক্ষণ এবং বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স। ঔষধ কিনতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের নানা কৌশলে মেয়াদ উত্তীর্ন ঔষধ বিক্রি এবং যুবকদের কাছে নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছে চক্রটি।
পুলিশ ও এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক গত (১৯ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালান। অভিযানের সময় ঘটনার সত্যতা পেয়ে এবং ঔষধের লেভেলে ডি এ/এম এ নাম্বার না লেখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মির্জাপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ রোডের চৌধুরী ফার্মেসীর মালিককে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, মাজেদা ফার্মেসীকে ৪০ হাজার টাকা, নাহার ফার্মেসীকে ৮০ হাজার টাকা, শাহী ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা, একতা ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা এবং আরোগ্য বিতান ফার্মেসীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা ঔষধ প্রশাসন বিভাগের তত্বাবদায়ক ডা. নার্গিস আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারক এবং মির্জাপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত (ইউএনও) মইনুল হক টিনিউজকে জানান, অভিযানের সময় ঘটনার সত্যতা পেয়ে ৬ ফার্মেসীর মালিককে ১৯৪০ সালের ২৭ ধারায় জরিমানা করা ও প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের কোন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টাঙ্গাইল জেলা কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, কোন ফার্মেসীতে সরকারী নিয়ম উপেক্ষা করে কোন অবস্থায় ফুড সাপ্লিমেন্টারী ঔষধ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং মেয়াদ উত্তীর্ন ঔষধ বিক্রি করা যাবে না। মির্জাপুর উপজেলার ঔষধ ফার্মেসীর মালিকদের বিভিন্ন সময় সতর্ক করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স নিয়ে ফার্মেসী পরিচালনা করার জন্য বলা হয়েছে। ফার্মেসী মালিকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামুলক, ড্রাস লাইসেন্স নিশ্চিত করাসহ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ