রবিবার, সেপ্টেম্বর 20, 2020
Home কৃষি ও কৃষক মির্জাপুরে বৃষ্টিতে রবি ফসল ও ৬৫ ইট ভাটার ব্যাপক ক্ষতি

মির্জাপুরে বৃষ্টিতে রবি ফসল ও ৬৫ ইট ভাটার ব্যাপক ক্ষতি

এস এম এরশাদ, মির্জাপুর ॥
টানা দুই দিনের বৃষ্টির কারণে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৬৫টি ইট ভাটায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এবছর ইটের দাম অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকাবাসী ও ইটভাটা মালিকেরা টিনিউজকে জানান, মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ৬৫টি ইটভাটা রয়েছে। গত ১৫ দিন আগে প্রায় সব ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হয়। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে রোববার (১০ ডিসেম্বর) সারাদিন অব্যাহত থাকায় ভাটাগুলোতে পোড়ানোর জন্য তৈরী করা কাঁচা ইট পানিতে গলে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া প্রত্যেকটি ভাটার আগুন নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বৃষ্টির পর পুনরায় ভাটাগুলোতে ইট প্রস্তুত করা হবে। এজন্য তাদের দিগুন খরচ হবে বলে ভাটা মালিকরা জানিয়েছেন।
উপজেলার সদরের বাইমহাটি এলাকার হাকিম ব্রিকস এর মালিক আওলাদ হোসেন টিনিউজকে বলেন, তার দুটি ভাটার সব কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৬৫টি থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ রকমভাবে সব ভাটার ক্ষতি হয়েছে। যা পুষিয়ে উঠা যাবে কিনা তিনি সন্দিহান উল্লেখ করে টিনিউজকে বলেন, বৃষ্টির আগে যেখানে প্রতি হাজার ইট সাড়ে সাত হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি সেখানে সাড়ে আট হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে হবে। এতেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠা যাবে না। তাছাড়া ভাটার বাৎসরিক লক্ষমাত্রাও পুরণ করা যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টাঙ্গাইল জেলা ও মির্জাপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান টিনিউজকে বলেন, তাঁর নিজের দুটি ইটভাটায় বৃষ্টির পানিতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৬৫টি ইটভাটা কাঁচা ইট মিলিয়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সব ভাটার আগুন নিভে যাবে। পুণরায় আগুন দিতে হবে। এতে ক্ষতির পরিমান আরও বেড়ে যাবে। এ বছর ইটভাটার কোন মালিক লাভের অংশ নিতে পারবেন না। প্রত্যেকেই কমবেশী ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে তিনি জানান।
অপরদিকে হেমন্তের শেষ সপ্তাহে দুই দিনের বৃষ্টিতে মির্জাপুরে রবি ফসল আবাদের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। উপজেলা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্ট সূত্র টিনিউজকে জানায়, এ বছর বর্ষার পানি দেরিতে যাওয়ায় রবি ফসলের আবাদ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এ উপজেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
সূত্র জানান, এ বছর উপজেলায় সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। সেখানে অর্ধেকও আবাদ হয়নি বলে জানা গেছে। আলু ও গম আবাদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বলে জানা গেছে।
উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের রোয়াইল গ্রামের দেওয়ান আব্দুর রহমান, ধুপরিয়া গ্রামের কৃষক আমির আলী, বানাইল ইউনিয়নের বানাইল গ্রামের আয়নাল হক, পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের নূরুল ইসলাম, জয়নাল সিকদার, আব্দুর রাজ্জাক, মহেড়া ইউনিয়নের হিলড়া গ্রামের আব্দুল আওয়াল এবং লতিফপুর ইউনিয়নের বরদাম গ্রামের কৃষক মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সরকার জানান, বর্ষার পানি দেরিতে যাওয়ায় এলাকার অর্ধেক কৃষক সরিষার আবাদ করতে পারেনি। তারা টিনিউজকে আরও জানান, যারা যতসামান্য সরিষার আবাদ করেছিল তা দুইদিনের বৃষিতে বিনষ্ট হয়ে গেছে।
মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফুর রহমান টিনিউজকে জানান, অসময়ের এই বৃষ্টিতে রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ