মির্জাপুরে বিতর্কিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নৌকার টিকেট দিতে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ ॥ তৃণমুলে ক্ষোভ

382

মির্জাপুর সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিতর্কিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নৌকার টিকেট দিতে বিপুল অংকের মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বিতর্কিতদের নাম প্রথমে দিয়ে কেন্দ্রে নামের তালিকা পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন প্রার্থীর নিকট থেকে ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তৃনমুল থেকে বাছাইকৃত দলের যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন না করে কয়েকজন বিতর্কিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। মনোয়ন বোর্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর নিকট তৃনমুলের নেতাকর্মীরা আবেদন করেছেন, যাচাই বাছাই করে যোগ্যদের মনোয়নপত্র (নৌকার টিকেট) দেওয়ার জন্য।
শুক্রবার (১৩ মে) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির টিনিউজকে জানান, আগামী (১৫ জুন) উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী দলীয় মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। ২৭ জনের মধ্যে দুইজনের নাম বাদ দিয়ে ২৫ জনের নামের তালিকা জেলা আওযামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি, মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও দলীয় সভাপনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের দু’সময়ের অন্তত ৫ জন নেতা অভিমান করে বলেন, ৬ ইউনয়নে চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিতদের নৌকার টিকেট দিতে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সুবিধাবাদী কিছু প্রভাবশারী নেতা মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন না হলে মির্জাপুর উপজেলায় ৬ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের ভড়াডুবির আশংকা রয়েছে। গত (১৫ জানুয়ারী) ৬ষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মির্জাপুরে ৮ ইউনিয়নের মধ্যে চার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকার ভড়াডুবি হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘরে বাইরে চলছে চরম দ্বদ্ধ।
আওয়ামী লীগের দলীয় সুত্র জানায়, ছয় ইউনিয়ন হচ্ছে মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, আজগানা ও তরফপুর। চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৩নং ফতেপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন তালুকদার, নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, ৪নং ভাওড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল ইসলাম ও আব্দুল মালেক, লতিফপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ও আলী হোসেন, বহুরিয়া ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাইদ তালুকদার ছাদু, আবুর কাশেম খোকন ও শেখ জসিম উদ্দিন, ১১ নং আজগানা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সিকদার রফিক, শহিদুল ইসলাম সহিদ মল্লিক, আব্দুল কাদের সিকদার ও আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া, ১২ নং তরফপুর ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম, ইজ্জত আলী জনি, আবুল বাছেদ, নাজিম উদ্দিন মোল্লাসহ ২৫ জন।
এদিকে ফতেপুর, ভাওড়া, লতিফপুর, বহুরিয়া, আজগানা ও তরফপুর এই ৬ ইউনিয়নের অন্তত ১০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, দলের মধ্যে একটি প্রভাবশালী চক্র মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়নের তৃনমুল থেকে যোগ্য ও গ্রহণ যোগ্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম বাদ দিয়ে এলাকায় বিতর্কিতদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃনমুলসহ ত্যাগী ও গ্রহনযোগ্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজগানা ইউনয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ত্যাগী নেতা আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া অভিযোগ করেন, যাদের নাম দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী, মাটি চুরি, এলাকায় প্রহসনমুলক বিচারের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, একাধিক মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ও যোগ্যদের নাম আগে না দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নৌকার টিকেট দিতে ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে ৬ ইউনিয়ন থেকে তিন থেকে চার কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে বলে ১০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। বিতর্কিতদের মনোয়ন না দেওয়ার জন্য মনোনয়ন বোর্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাবেক ভিপি সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ টিনিউজকে বলেন, ছয় ইউনিয়নে মধ্যে ২৫ জন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী দলীয় মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তৃনমুল থেকে আসা যোগ্য, গ্রহণযোগ্য এবং ত্যাগী নেতাদের চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। অদৃশ্য শক্তির বলে ওই তালিকা নয়ছয় হয়েছে বলে তারাও জানতে পেরেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। যোগ্য ও গ্রহণযোগ্যদের নৌকার মনোয়ন দেওয়া না হলে চেয়ারম্যান বিজয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পরবে। উন্নয়নের ধারা অব্যগুত রাখতে যোগ্য ও ত্যাগীদের মুর‌্যায়ন করে মনোয়ন দেওয়ার জন্য দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং মনোয়ন বোর্ড এর সদস্যদের নিকট তিনি জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শরিফা বেগম টিনিউজকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপুর্নভাবে গ্রহণের লক্ষে নির্বাচন কমিশনের দিক নির্দেশনায় তাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। কমিশনের নির্দেশনায় আগামী (১৫ জুন) মির্জাপুর উপজেলার ছয় ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। (১৭ মে) মনোয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, বাছাই (১৯ মে), আপিল (২২ মে), আপিল নিষ্পত্তি (২৫ মে), প্রার্থিতা প্রত্যাহার (২৬ মে), প্রতিক বরাদ্ধ (২৭ মে) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী (১৫ জুন)।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ