মির্জাপুরে বিএনপি ও হেযবুত তাওহীদের চার নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

207

স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফিরোজা আক্তার বিএনপির দুই নেতা ও হেযবুত তাওহীদের দুই নেতার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ইউপি সদস্যকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে অশালীন কথাবর্তা লিখা ছাড়াও মিথ্যে অপবাদ দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া অভিযুক্তরা এলাকার চা স্টলসহ বিভিন্ন সামাজিক পরিবেশে ওই ইউপি সদস্য খ্রিস্টান হয়েছে এমন অপবাদ দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে ইউপি সদস্য ফিরোজা আক্তার জানিয়েছেন।
ফিরোজা আক্তার উপজেলা কৃষকলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও বালিয়াজান উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য।

 

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, একই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জামান মিয়া, হেযবুত তাওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মো. ওমর খান এবং মির্জাপুর ও সখিপুর উপজেলা হেযবুত তাওহীদের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর।

অভিযোগে জানা গেছে, হেযবুত তাওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মো. ওমর খান এবং মির্জাপুর ও সখিপুর উপজেলা হেযবুত তাওহীদের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর গত দুই সপ্তাহ আগে বাঁশতৈল ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য ফিরোজা আক্তারকেসহ কয়েকজন ইউপি সদস্যকে একটি করে বই উপহার দেন এবং ছবি তুলেন। তারা ইউপি চেয়ারম্যান ও অন্য ইউপি সদস্যদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে পোস্ট না করলেও শুধুমাত্র ফিরোজা আক্তারের ছবি পোস্ট করেন এবং সেখানে লিখেন, মানবতার কল্যাণে হেযবুত তাওহীদের ভূমিকার বিষয়বস্তু উপলব্ধির পর সম্মানিত মেম্বার সাহেবা হেযবুত তাওহীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এরপর হেযবুত তাওহীদের পক্ষ থেকে ইসলামের প্রকৃত আকিদা বইটি সাদরে গ্রহণ করেন।

এদিকে ফেজবুকের এই পোস্ট দেখে কিছু না বুঝেই বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম ও একই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জামান মিয়া এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন ইউপি সদস্য ফিরোজা আক্তার খ্রিস্টান হয়ে গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, খ্রিস্টান হওয়ার মিথ্যে ঘটনাটি মালয়েশিয়া প্রবাসী ফিরোজা বেগমের স্বামী জানতে পারায় তাদের সাংসারিক ও দাম্পত্য কলহ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গুজব ও মিথ্যে অপবাদ দেয়ার বিচার চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১২ জুলাই) টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে ফিরোজা আক্তার লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাঁশতৈল ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জামান মিয়া ফিরোজা বেগমকে খ্রিস্টান হওয়ার বিষয়টি বলেননি বলে জানান।

একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ফিরোজা আক্তার আমার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে আমি এ ধরনের কথা বলতে পারিনা, তবে অন্য কেউ বলতে পারেন বলে জানান।
হেযবুত তাওহীদের অভিযুক্ত দুই নেতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
ইউপি সদস্য ফিরোজা আক্তার বলেন, অভিযুক্তরা যেকোন সময় আমার জান মালের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। স্বামীর সংসার হইতে আমাকে বিতারিত করার জন্য তারা আমার প্রবাসী স্বামীর কাছেও খ্রিস্টান হওয়ার মিথ্যে কথা জানিয়েছে। আমার সাংসারিক জীবন অতিষ্ট করিয়া তুলেছে। তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার দাবি করে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

বাঁশতৈল ইউপি চেয়ারম্যান মো. হেলাল দেওয়ান জানান, হেযবুত তাওহীদের কয়েকজন সদস্য ইউপি কার্যালয়ে এসে তাকেসহ কয়েকজন ইউপি সদস্যকে বই উপহার দেন এবং ছবি তুলেন। শুধু ইউপি সদস্য ফিরোজা আক্তারের ছবি ফেজবুকে দেন এবং তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশের কথা লিখেন। এ নিয়ে এলাকার কিছু মানুষ ফিরোজা আক্তারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যে অপবাদ দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে তিনি জানান।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, অভিযোগ হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ