মির্জাপুরে বন বিভাগ ও পাহাড়ি টিলা কেটে দেদারে লাল মাটি চুরি

20

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর, লতিফপুর, আজগানা এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নে চলছে মাটি চুরির মহাউৎব। সরকারি আইন অমান্য করে একটি চক্র বন বিভাগ ও পাহাড়ি এলাকায় টিলা ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে দেদারে লাল মাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগকারী কামাল উদ্দিন জানান, মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দেয়ায় চক্রটি নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনা ঘটেছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, তরফপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম মোল্লা ও তাদের সহযোগী মোকলেছুর রহমান মুকুল, সহিদ মিয়া ও ফরহাদ আলী মইদাসহ ১৫-২০ জনের একটি চক্র পাহাড় কেটে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। দীর্ঘ দিন ধরে এই চক্রটি খলিয়াজানি, ডোহাতলী, পাথরঘাটা, তরফপুর, টাকিয়া কদমাসহ বিভিন্ন গ্রামের পাহাড়ের টিলা ও বন বিভাগের জমিতে ভেকু বসিয়ে পাহাড়ের টিলার লাল মাটি কেটে চুরি করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নেয়ার ফলে এলাকার রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
এদিকে অবৈধভাবে বন বিভাগের ও পাহাড়ি টিলা কাটা বন্ধসহ মাটি চোরদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডৌহাতলী (পাথরঘাটা) গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে গত (১ অক্টোবর) মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরও আবেদন দিয়েছেন। অভিযোগ দেয়ার পর থেকেই কামাল উদ্দিনকে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
অপরদিকে পাহাড়ি এলাকা লতিফপুর, টাকিয়া কদমা, সিট মামুদপুর, মামুদপুর, বান্দাচালা, লতিফপুর, কোদালিয়া, আজগানা, কোড়াতলী, শেখেরচারা, হাটুভাঙ্গা, বাঁশতৈল, নয়াপাড়া, পেকুয়া, গায়রাবেতিল, বালিয়াজান, মোতারচালাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি টিলা ও উচু এলাকা থেকে লাল মাটি চুরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকগুলোর বাসিন্দারা।
মাটি চুরিতে অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান বলেন, আমি নই, অন্যরা মাটি চুরি করছে। বক্তব্য নিতে আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম মোল্লা ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ারের সঙ্গে তাদের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন ধরেননি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর্জা জুবায়ের হোসেন টিনিউজকে বলেন, পাহাড়ের টিলা ও বনাঞ্চলের মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ