মির্জাপুরে বই উৎসবে শিশু ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বই না পাওয়ার আশঙ্কায়

54

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
একদিন পরেই শুরু হবে ২০২৩ সাল। নতুন বছরের (১ জানুয়ারি) বই উৎসবের প্রত্যাশিত নতুন বই পৌছায়নি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। এতে বই উৎসবে ভাটার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। ছাপানো বইয়ের কাগজ ও ছাপার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। এছাড়া শিশু ও সপ্তম শ্রেণির বই না আসায় বই উৎসবে শ্রেনি দুটির শিক্ষার্থীরা নতুন বই না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন, নিম্নমানের ছাপা এবং যথাসময়ে বই না পাওয়ায় শিক্ষর্থীদের মধ্যে প্রভাব পড়বে। এছাড়া বইয়ের কাগজ ও বাধাইয়ের মানও ভালো হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।




উপজেলা শিক্ষা অফিস বলছে, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বই না আসলেও প্রথম শ্রেণি হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ বই পেয়েছেন। বই উৎসবে কোন শিক্ষার্থী খালি হাতে বাড়ি যাবে না বলে শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানান, এ উপজেলায় ৯ হাজার ৫০০ জন প্রাক প্রাথমিক, ১১ হাজার ১৯ জন প্রথম শ্রেণি, ১০ হাজার ৩২৭ জন দ্বিতীয় শ্রেণি, ৯ হাজার ৯৩০ জন তৃতীয় শ্রেণি, ৯ হাজার ৫৮৫ জন চতুর্থ শ্রেণি ও ৯ হাজার ৭০০ জন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম শ্রেণির তিন বিষয়ের মধ্যে এক বিষয়, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ বিষয়ের মধ্যে ২ বিষয় এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৬ বিষয়ের মধ্যে ৩ বিষয়ের বই পৌছেছে।
এ উপজেলায় ১৭০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৫৬ টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল রয়েছে। এতে মোট শিক্ষার্থী ৬০ হাজার ৬১ জন। নতুন বইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮। এর মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩১৮টি বই পৌছেছে। শতকরা হিসেবে সাড়ে ৪৫ শতাংশ। মাধ্যমিক ৪০ শতাংশ বই পৌছানো হয়েছে। এ উপজেলায় ৫২ টি মাধ্যমিক ও ১৪টি মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ট হতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৭৯২টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ষষ্ঠ, অস্টম ও নবম শ্রেণির ২ লাখ ১২ হাজার ৩৪৫টি বই পৌছেছে।




মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাদিকা আফরিন টিনিউজকে জানায়, সপ্তম শ্রেণির বই এখনো আসেনি বলে শিক্ষকরা তাদের জানিয়েছেন। উৎসবের দিন সবাই নতুন বই পাবে আর আমরা পাবো না বিষয়টি কেমন হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক টিনিউজকে বলেন, বিগত ২০০৯ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন বই উৎসব শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয় থেকে বই নেয়। কিন্তু এই প্রথম বই উৎসবে শিক্ষার্থী সব বই পাবে না। আর যে সব বই পাবে সেসব বইয়ের কাগজ ও ছাপার গুনগত মান তেমন ভালো না। শিশুরা বই বেশি ব্যবহার করে থাকে। কিছুদিন গেলেই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাঙ্খিত বই না পাওয়ায় বন্টনে কিছুটা সমস্যা হবে।




মির্জাপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন টিনিউজকে জানান, উৎসবের দিনে শিশু শ্রেণি বাদে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি বই হলেও পাবে। তবে উৎসবের আগেই প্রত্যাশী বই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার টিনিউজকে জানান, চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ ভাগ বই পৌছেছে। সপ্তম শ্রেণির কোন বই পৌছেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি বই পৌছে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আমরা উৎসবের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ