মির্জাপুরে পোষ্টকামুরী গ্রামে সমাজবদ্ধ হয়ে ৯৩ গরু ও ৮টি খাশি কোরবানি

276

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর এলাকার পোষ্টকামুরী গ্রামে ৯৩টি গরু ও ৮টি খাশি কোরবানি করা হয়েছে। এই পশুর এক তৃতীয়াংশ মাংস গ্রামের ৫ হাজার ১৮৪ জন মানুষের এক হাজার ১৮০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিজন ৯০০ গ্রাম করে মাংস পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

গ্রামের লোকজন ২৭ বছর যাবত সমাজবদ্ধ হয়ে একত্রে এক জায়গায় পশু কোরবানি করছেন বলে গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ভিপি আবু আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শামীম আল মামুন, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জলিল খান, সাবেক কাউন্সিলর এস এম রাশেদ, আমিরুল কাদের লাবন, মির্জাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম সহিদ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন।

গ্রামের লোকজন টিনিউজকে জানান, পোষ্টকামুরী গ্রামটিতে পাঁচ হাজারের অধিক লোকজনের বসবাস। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে আসার নামই ঈদের বার্তা। আর কোরবানির উদ্দেশ্য হলো ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই গ্রামবাসী সমাজবদ্ধ হয়ে দুই যুগের বেশি সময় ধরে একত্রে কোরবানি করে থাকেন। গ্রামের সব মানুষকে এক পরিবারের সদস্য মনে হয়। গ্রামটিতে কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে শতাধিক মানুষের। তবে কোরবানির মাংসের জন্য গ্রামের কাউকে কোথাও যেতে হয় না। যারা কোরবানি দেন তারাসহ গ্রামের সবাইকে সমহারে মাংস দেয়া হয়। প্রতি বছর জনপ্রতি এক কেজি করে মাংস বিতরণ করা হলেও এ বছর গরু কোরবানি কম হওয়ায় জনপ্রতি ৯০০ গ্রাম করে সমহারে বিতরণ করা হয়।

প্রতি বছর পোষ্টকামুুরী ক্লাব মাঠে গ্রামবাসী একত্রে কোরবানি করে থাকেন। এ বছর ক্লাব মাঠসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) পাশে এবং কয়েকজন বাড়িতে পশু কোরবানি করেন। বাড়িতে কোরবানি করা পশুর এক তৃতীয়াংশ মাংস নিজ দায়িত্বে ক্লাব মাঠে মাংস বিতরণ কাউন্টারে পৌছে দেন। মহাসড়কের পাশে কোরবানি করা পশুর মাংষ স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। পরে গ্রামটির এক হাজার ১৮০ পরিবারের মধ্যে এই মাংস বিতরণ করা হয়। গ্রামের মানুষের একসঙ্গে পশু কোরবানি দেয়া গ্রামটির রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে সামাজিক হৃদ্যতা বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি ভালো কাজে উৎসাহ পাচ্ছে গ্রামবাসী।

গ্রামবাসীরা টিনিউজকে আরও জানায়, গ্রামটিতে পৌরসভার মেয়র, সাবেক দুই মেয়র, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতাদর্শের লোকজন বসবাস করলেও কোরবানি উপলক্ষে তা থাকে না। ধনী-গরিব সবার মাঝে ঈদের খুশি ভাগ করে নিতে একসঙ্গে পশু কোরবানি করেন গ্রামের পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ। ঈদের দিন কোরবানির পশু নিয়ে আসা হয় খোলা মাঠে। কোরবানির পর এক তৃতীয়াংশ মাংস একত্রিত করে তালিকা অনুযায়ী মাইকে নাম ডেকে মাংস বিতরণ করা হয়। মাংসের জন্য কাউতে ঘুরতে হয় না কারও দ্বারে দ্বারে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এই মেলবন্ধন চলছে দুই যুগ ধরে।

পোষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মনি, পৌর বিএনপির সভাপতি হযরত আলী মিঞা, অটো টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন মির্জাপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম এরা টিনিউজকে বলেন, গ্রামের মধ্যে যাদের কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের সবার পশু ঈদের দিন এক মাঠে আনা হয়। একে একে কোরবানি করা হয় সব পশু। এরপর মাংস সমান তিন ভাগের এক অংশ পৌঁছে দেয়া হয় সামাজিক কাউন্টারে। বাকি দুই ভাগ নেন কোরবানিদাতা। এমন সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য মেলবন্ধন পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা গভীর করে বলে তারা জানান।

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ