মির্জাপুরে পুলিশ পাহারায় আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

110

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে শারীরিক লাঞ্চনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে পুলিশ পাহারায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।




সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টুকে লাঞ্চনার ঘটনায় জড়িত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত হয়। দলীয় এই সভায় বিবাদমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরসহ উভয়পাশে কমপক্ষে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে সভার শেষ পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।




পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলটির নেতাকর্মীরা টিনিউজকে জানান, শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদের সভাপতিত্বে রাত ৭টা পর্যন্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির ৫৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এতে মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ ছাড়াও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম মনির, সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, আবু রায়হান সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুর রহমান আকন্দ, শামীম আল মামুন, দপ্তর সম্পাদক জহিরুল হকসহ কার্যকরী কমিটির ৩০ জন বক্তৃতা করেন।




সিরাজুল ইসলাম সিরাজ গত (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১০ নম্বর ওয়ার্ড মির্জাপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। পরাজিত হওয়ার বিষয়টি তিনি স্বাভাবিকভাবে না নিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত (২৮ অক্টোবর) শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন।

এ বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। এছাড়া ঘটনাটি এ উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা হয়। এ সময় পরিষদের উভয় পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।




উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জহিরুল হক টিনিউজকে বলেন, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন টিনিউজকে জানান, আওয়ামী লীগের সভা শান্তপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।




মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ টিনিউজকে বলেন, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করার কথা আংশিক স্বীকার করেছেন। সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুপারিশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ