মির্জাপুরে পুলিশের সোর্স নুরু ও বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী ॥ এমপি ও এসপির কাছে অভিযোগ

1,104

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশের সোর্স নুরু মিয়া ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। তিনি পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে মাদক বিক্রিসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার ভাওড়া ফতেপুর গ্রামের লোকজন তার এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।




লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার পাইখার ভাওড়া গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে নুরু মিয়া দীর্ঘ দিন যাবত মির্জাপুর থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। এ সুুবাদে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ চাঁদাবাজি শুরু করেন। এজন্য তিনি পাইখার ভাওড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আরিফ মিয়া ও তার ছোট ভাই আব্দুল বাছেদ মিয়াসহ কয়েকজনকে নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে থাকেন। এই বাহিনীর বিভিন্ন অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।




এলাকাবাসী জানান, বিগত ২০১৯ সালে ইয়াবা ও গাঁজাসহ নুরু মিয়া গ্রেপ্তার হন। মির্জাপুর থানার মামলা নম্বর ১৪। এছাড়াও তিনি পুলিশের ভয় দেখিয়ে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায়, মাদক বিক্রি করায় তার মূল কাজ। তাছাড়া গত ৬/৭ মাস আগে একই ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের চারজন ব্যাক্তিকে তাস খেলা অবস্থায় পুলিশের ভয় দেখিয়ে ৪৮ হাজার টাকা আদায় করেন। এ অভিযোগে মির্জাপুর থানার সে সময়ের সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল ও মনির বরখাস্ত হন। কিন্তু পুলিশের সোর্স নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে ওই সময় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ঘটনার পর গা ঢাকা দেন নুরু মিয়া। কিছু দিনপর আবার থানায় আসা-যাওয়া শুরু হয় নুরু মিয়ার। মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রামকৃষ্ণ দাস ও সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) হামিদুলের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করে নুরু মিয়া। সে সুবাদে নুরু মিয়া এলাকায় যা ইচ্ছা তাই করে বেড়ায়। কেউ তার ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। নুরু মিয়ার অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী স্থানীয় এমপি ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।




এছাড়া নুরু মিয়ার ছেলে মারুফ মিয়া মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচলরত স্কুল কলেজের মেয়েদের উত্যক্ত করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে গত (১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর) নুরু মিয়ার নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী গ্রামবাসির ওপর হামলা করে। এতে বেশকয়েকজন আহত হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তাছাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে থাকে। এজন্য সন্ধ্যার পর ওই এলাকার চামুটিয়া বাজারটি সন্ধ্যার আগেই বন্ধ হয়ে যায় বলে লিখিত অভিযোগে জানা গেছে। নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগও করেন এলাকাবাসী।




এ ব্যাপারে নুরু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি পুলিসের সোর্স হিসেবে কাজ করেন।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রামকৃষ্ণ দাস বলেন, গত কয়েকদিন যাবত নুরু মিয়াকে নিয়ে তিনি কাজ করছেন না বলে জানান।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, এলাকাবাসী অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিন তদন্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ভাওড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, নুরু মিয়ার রাগ বেশি। তিনি এলাকার লোকদের পুলিশের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করে থাকেন।
ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী কেউ আমাকে পুলিশের সোর্স নুরুর অপকর্ম সম্পর্কে জানায়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে তার অপকর্মের কথা শুনেন বলে জানান।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, অভিযোগ হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ