মির্জাপুরে পাহাড়ের টিলার লাল মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

58

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবাদে চলছে পাহাড়ের টিলা কাটা। টিলা কেটে সেই মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়। স্থানীয় প্রশাসন এই টিলাকাটা বন্ধে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও আইনের তোয়াক্কা না করে রাতের আধারে প্রতিদিন পাহাড়ের উঁচু টিলা কেটে শত শত ড্রাম ট্রাক মাটি লুট করে নিচ্ছে তারা। এতে রাস্তা মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এদিকে ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে পাহাড়ের মাটি লুট করলেও মাটি লুটেরারা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ ভয়ে টু শব্দ করতে পারছেনা।




মির্জাপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়ন হলো পাহাড়ী লালমাটি অঞ্চল। এই তিনটি ইউনিয়নে রয়েছে বনাঞ্চল ও বড় বড় পাহাড়ী টিলা। অন্যদিকে মির্জাপুর উপজেলায় রয়েছে শতাধিক ইটভাঁটি। ইটভাঁটিগুলিতে ইট তৈরী করতে এই লাল মাটির রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। পাহাড়ের লাল মাটির এই অবৈধ ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি চক্র। চক্রের সদস্যরা বছরের প্রায় অর্ধেক সময় পাহাড়ের টিলার মাটি কেটে উচ্চমূল্যে ইটভাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রী করে আসছে।




রবিবার উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা গ্রামের গিয়ে দেখা গেছে কয়েকটি স্পটে বিশাল এলাকা থেকে পাহাড়ের টিলা কেটে মাটি লুটে নিচ্ছ চক্রটি। রাতভর চলে এই টিলা কাটা। শত শত ড্রাম ট্রাক মাটি অন্যত্র বিক্রী করছে তারা। একইভাবে আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা চিতেশ্বরী ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের গায়রাবেতিলসহ পাহাড়ী এলাকার বিভিন্ন স্থানে চলছে এই টিলা কাটা।




টাকিয়া কদমা গ্রামে পাঁচগাও গ্রামের রোকন, শহিদুল দেওয়ান ও সুরুুজ এবং জুলহাস এবং গায়রাবেতিল গ্রামে মাসুদ ও মঞ্জুরুল কাদের বাবুল ভেকু মেশিন দিয়ে পাহাড়ের টিলা কেটে বড় বড় ড্রাম ট্রাক ভর্তি করে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন।
টাকিয়া কদমা গ্রামের সাহিনুর ইসলাম জানান, আশপাশের বাড়ির লোকজন মাটি বিক্রি করেছেন। এজন্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গরু ছাগল ও শিশুদের নিয়ে চলাফেরার অসুবিধা হচ্ছিল। জমি সমতল করার জন্য তিনি ও তার ভাই আলমগীর হোসেন ১৯০ শতাংশ জমির মাটি পাঁচগাও গ্রামের রোকনের কাছে ১০০০ হাজার টাকা ট্রাক বিক্রি করেছেন।
একই গ্রামের শওকত হোসেন জানান, বাাড়িতে ঘর দিবেন। আশপাশের লোকজন টিলা কেটে নিচু করছে। আমি উচুতে কেমনে ঘর দেই। সেজন্য মাসুদ নামে এক ব্যক্তির কাছে তার টিলার লাল মাটি বিক্রি করেছেন বলে জানান।




নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাকিয়া কদমা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে সস্তায় টিলার মাটি কিনে পাচগাঁও গ্রামের রোকন, মাসুদ ও শহিদুল রাতে ২০/২৫টি বড় বড় ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি নেয়। এতে পাহাড়বাসীর স্বপ্নের রাস্তাগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে।
ছিট মামুদপুর গ্রামের কয়েকজন জানান, রাতভর চলে মাটির ট্রাক। ট্রাকের শব্দে সবার ঘুম হারাম হয়ে যায়। এছাড়া পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে বলে তারা জানান।
ছিট মামুদপুর গ্রামের মোতালেব হোসেন জানান, মাটি ভর্তি বড় বড় ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে পাঁচগাও-মির্জাপুর আঞ্চলিক সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দেয়। পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার মাটি নেয়া শুরু হয়।




উপজেলার বাঁশতৈল রেঞ্জ অফিসের রেঞ্জার আশরাফুল আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকায় মাটি কাটার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া রেকর্ডীয় জমি থেকে লাল মাটি কাটার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে বলে তিনি জানান।
পরিবেশ অধিদফতর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি টিলা কাটায় ভূ-প্রকৃতিসহ এলাকার জীববৈচিত্র বিনষ্ট হবে। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তথ্য পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ