মির্জাপুরে পাকুল্যা-লাউহাটি সড়কে নিন্মমানের খোয়া দিয়ে চলছে রাস্তার কাজ

244

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাকুল্যা-লাউহাটি আঞ্চলিক সড়কের পুণ:নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিন্মমানের ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই রাস্তা। উপজেলা প্রকৌশল অফিস ব্যবহৃত ইট ও খোয়া ল্যাবে পরীক্ষার পর নিন্মমানের রিপোর্ট পেলেও থেমে নেই নির্মাণ কাজ। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা গেছে, উপজেলার পাকুলা-লাউহাটি আঞ্চলিক সড়কটি ব্যস্ততম একটি সড়ক। এ সড়ক দিয়ে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী, আনাইতারা, বানাইল ও ওয়ার্শী ইউনিয়নের লোকজন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী, দেলদুয়ার, নাগরপুর, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, সিঙ্গাইর ও ধামরাই উপজেলার লোকজন পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ড হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। সড়কটিতে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। সম্প্রতি সড়কটি খানাখন্দকে পরিণত হলে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ রাস্তাটির মির্জাপুর অংশের প্রায় দশ কিলোমিটার সংস্কারের উদ্যোগ নেন। টেন্ডারের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইব্রাহীম কনস্ট্রাকশন জেবি মেসার্স সানভি ট্রেডার্স কাজটি পান। মির্জাপুর এলজিইডি অফিসের ত্বত্ত্বাবধানে ৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত বছরের (১৫ জুলাই) রাস্তাটির কাজ শুরু করেন। আর নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ইট-বালি ও খোয়ার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন স্থানীয়রা। এছাড়া রাস্তাটির পুরাতন কার্পেটিং তুলে বালি ব্যবহার করে খোয়া দিয়ে ৪ ইঞ্চি মেকাডাম করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগে জানা গেছে। ইতোমধ্যে এলজিইডি মির্জাপুর অফিস থেকে ওই রাস্তায় ব্যবহৃত ইট ও খোয়া টাঙ্গাইল ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত রিপোর্টে গুণগত মান সঠিক না থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। তারপরও থেমে নেই ওইসব খোয়া দিয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজ। এদিকে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান ইট ও খোয়ার গুনগত মান সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে ভালো মানের খোয়া স্তুপ রাখা হয়েছে। শ্রকিরা কাজ করার সময় অন্যত্র থেকে নিন্মমানের খোয়া এনে তরিঘরি করে রাস্তায় ফেলছেন। সাথে সাথেই রোলার দিয়ে কনফেকশন (সমান) করা হচ্ছে। ওইসব খোয়ার মধ্যে কিছু ভালো খোয়া আস্ত থাকলেও নিন্মমানের খোয়াগুলো গুড়ো হয়ে যাচ্ছে। ভালো মানের খোয়াগুলো লোক দেখানো রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। সেখানে কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। তাদের নাম জানতে চাইলে তারা টিনিউজকে বলেন, আমাদের নাম দিয়ে কি হবে ভাই। ভালো-মন্দ বুঝি না। ঠিকাদার যেসব মাল আনবে আমরা তো তা দিয়েই কাজ করবো।

কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার মাজেদুর রহমান টিনিউজকে বলেন, খোয়াগুলো ইটভাটায় বৃষ্টিতে ভিজেছে। তাছাড়া নিচের হওয়ায় একটু নিন্মমানের বুঝা যাচ্ছে। আসলে খোয়াগুলো নিন্মমানের নয়।

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর রহমান তালুকদার রাজীব টিনিউজকে বলেন, নিন্মমানের ইট দিয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া বালু দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। রাস্তা খুড়ে যে মাটি উঠছে তাই ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মাহবুবুর রহমান লিটন টিনিউজকে বলেন, রোলার দিয়ে কনফেকশন (সমান) করার সময় খোয়া কিছুটা গুড়ো হতে পারে। রাস্তায় ব্যবহৃত ইট ও খোয়া ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গুনগতমান সঠিক নেই বলে রিপোর্ট এসেছে। এ বিষয়ে আপনার জানা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান টিনিউজকে জানান, রাস্তায় ব্যবহৃত ইট ও খোয়ার গুনগত মান সঠিক না থাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরিয়ে না নেয়া হলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ