মির্জাপুরে নির্যাতনের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

359

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য মাতাব্বরদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ডি এম সালমান (১৬) নামে এসএসসি পরীক্ষার্থী বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ শুক্রবার (২ সেপ্টম্বর) সকালে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে সালমানের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

সালমান উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়াতলী গ্রামের শামসুল দেওয়ানের ছেলে। সে তার মা সহ উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের চুকুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে লেখাপাড়া করতো। সালমান এবছর গল্লী জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানান, চুকুরিয়া গ্রামের আল আমীন একই এলাকার ব্যবসায়ী শফিকের দোকানে সালমানকে সাথে নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা লেনদেন করে। আল আমীন পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে চলে এসে গা-ঢাকা দেয়।
গত বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে ব্যবসায়ী শফিক সালমানের কাছে টাকা দাবি করে। এতে সালমান অস্বীকৃতি জানায়। ওইদিন বিকেলে শফিক সালমানকে ডেকে চুকুরিয়া গ্রামের মাতাব্বর নাজিম উদ্দিনের ছেলে সেকেন্দার মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সেকেন্দার ছাড়াও একই গ্রামের আজিজ তালুকদারের ছেলে শফিক তালুকদার, আশোক আলীর ছেলে আব্দুল লতিফ মিয়া, সেকান্দার সরকারের ছেলে মোক্তার সরকার ও খালেক মিয়ার ছেলে সাইফুল মিয়া মিলে সালমানকে কয়েক ঘন্টা আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারিরিকভাবে নির্যাতন করে। রাতের কোন এক সময় সালমান ওই এলাকার মামুন তালুকদার নামে এক ব্যক্তিকে মুঠোফোনে কল করে তাকে উদ্ধার করতে বলেন। মামুন রাতেই তাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে রাখে।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টম্বর) সকালে মামুনের বাড়ি থেকে রেব হয়ে যায়। সাড়ে আটটার দিকে সালমানের সাথে মামুুনের দেখা হলে সে বিষপান করেছে বলে মামুনকে জানায়। পরে মামুন সালমানের মামাতো ভাই উজ্জলকে বিষয়টি জানিয়ে প্রথমে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২ সেপ্টম্বর) রাত সারে তিনটার দিকে সালমানের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

সালমানের মামাতো ভাই জামুর্কী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সস্পাদক উজ্জল হোসেন খান বলেন, সদা হাস্যজ্জল ও বিনয়ী সালমানকে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে তাদের উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দাবি করছি।
মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জানান, সালমান ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলো। যারা তার মৃত্যুর প্ররোচনাকারী হিসেবে দায়ী তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

জামুর্কী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন তালুকদার জানান, সালমানের ফোন পেয়ে সেকেন্দারের বাড়িতে যাই। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করি। তবে সেকান্দার সালমানের মুঠোফোন রেখে দেয়। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টম্বর) সকালে সালমান আমাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়ে বিষপান করে। সাড়ে আটটার দিকে সালমানের সাথে দেখা হলে বিষপানের কথা জানালে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, সালমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইউডি মামলা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা হবে তিনি জানান।

 

ব্রেকিং নিউজঃ