মির্জাপুরে দুধ দিয়ে গোসল করে যুবলীগ থেকে বিদায় নিলেন ছানোয়ার

162

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কাক্সিক্ষত পদ না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে যুবলীগ থেকে বিদায় নিলেন ছানোয়ার হোসেন নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার আজাগানা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি/আহবায়ক হতে না পেরে এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে। সে মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তাঁর বাবা আজগানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

রবিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ইউনিয়নের খাটিয়ারহাট বাজারে ছানোয়ার হোসেন তার দুই কান ধরে শপথ করেন। পরে এক বালতি দুধ দিয়ে গোসল করে যুবলীগ থেকে বিদায় নেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।




জানা গেছে, শনিবার (১৫ অক্টোবর) আজগানা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। খাটিয়ারহাট বাজারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে আজগানা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের সিকদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তার হাজী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আজহারুল ইসলাম ও আবিদ হোসেন শান্ত প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সভাপতি পদে দুুইজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন নিজেদের প্রার্থী ঘোষনা করেন। উপস্থিত সকলের সম্মতিতে রোমান সরকারকে আহবায়ক ও সুরুজ আল মামুন ও আব্দুল লতিফকে যুগ্ম আহবায়ক এবং ছানোয়ার হোসেনসহ আটজনকে সদস্য করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়। ছানোয়ার হোসেন কাঙিক্ষত পদ না পেয়ে রবিবার খাটিয়ারহাট বাজারে জনসম্মুখে দুধ দিয়ে গোসল করে যুবলীগ থেকে বিদায় নেন। এসময় তিনি কান ধরে উঠবসও করেন। শুধু তাই নয়, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ও তার মোটরসাইকেলটিও দুধ দিয়ে ধুয়ে নেন তিনি।




ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ছানোয়ার হোসেন টিনিউজকে বলেন, আমার পরিবার আজগানা ইউনিয়ন পূর্বাঞ্চলের একমাত্র আওয়ামী পরিবার। আমার পরিবার ছাড়া এই অঞ্চলে আগে আর কোন সক্রিয় আওয়ামী পরিবার ছিলো না। আমার পরিবারের এতো ত্যাগ থাকার পরও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পদ পেলাম না। আমরা মুুসলাম। ওরা হলো পাপিষ্ট। রাসুলের কালেমা পড়ে মরতে চাই। যারা জালিমগোরে সাথে আছেন তারা থাকেন গা। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে বিদায় নিলাম।

দোকানের সামনে ও মোটরসাইকেল দুধ দিয়ে ধোয়ার বিষয়ে তিনি টিনিউজকে বলেন, অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আমার মোটরসাইকেলে উঠেছেন। এছাড়া আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির কোন আলাপ আলোচনা আর না হয়, সেজন্য মোটরসাইকেল ও দোকানের সামনে দুধ দিয়ে ধুয়ে দিয়েছি।




আজগানা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের সিকদার টিনিউজকে বলেন, ছানোয়ার হোসেনের পরিবার আওয়ামী পরিবার। কি কারণে দুধ দিয়ে গোসল করে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে এ রকম মন্তব্য করেছেন তা আমার বোধগম্য নয়।

মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, সম্মেলনের আগে ছানোয়ার হোসেন নিজেকে প্রার্থীতা ঘোষনা দেননি। এছাড়া তিনি একাই সম্মেলনস্থলে আসেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে তিনি নিজেকে সভাপতি প্রার্থী ঘোষনা দেন। উপস্থিত সকল সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে রোমান সরকারকে আহবায়ক ও সুরুজ আল মামুন ও আব্দুল লতিফকে যুগ্ম আহবায়ক এবং ছানোয়ার হোসেনসহ আটজনকে সদস্য করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়। যুবলীগের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে ছানোয়ার হোসেন কারো উস্কানীতে এ কাজটি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ