মির্জাপুরে দুই স্কুল ছাত্রের হত্যায় মামলা দায়ের

140

3মির্জাপুর প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই স্কুল ছাত্রের হত্যার ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার বিকেলে নিহত স্কুল ছাত্র শাকিলের মা জোৎস্না বেগম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১৬। ধারা ৩০২/২৪।
পুলিশ সুত্র জানান, গত ২৭ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে পার্শ্ববতী ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের চর চৌহাট দেলুটিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শাকিল মিয়া ও আবু বক্করের ছেলে ইমরান হোসেন বাড়ির পাশে মির্জাপুর উপজেলার হাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান দেখতে আসে। কিন্তু তারা আর বাড়ি ফিরে নাই। পরের দিন বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে মুঠোফোনে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক ব্যাক্তি (এই নম্বর দিয়ে ০১৯৬৬-৮২০১৮৬) শাকিলের বড় বোন দিলরোবার কাছে ফোন করে শাকিলের আম্মা জোৎস্না বেগম কোথায় জানতে চায়। মা গোসলে থাকার কথা জানালে অপর প্রান্ত থেকে ফোন বন্ধ করে দেয়। গোসল শেষে শাকিলের আম্মা ওই নম্বরে বার বার চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পান। পরবর্তীতে একই নাম্বার থেকে ইমরানের চাচা তারা মিয়ার কাছে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মহিলা ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আবার ফোন বন্ধ করে দেয়। অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির এ ঘটনাটি ধামরাই থানা পুলিশকে জানানো হয় বলে শাকিলের ছোট চাচা মির্জাপুর উপজেলার শশধরপট্রি গ্রামের বাসিন্দা উজ্জল মিয়া জানিয়েছেন। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি বরে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় শাকিল ও ইমরানের গলাকাটা লাশ মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের ময়ুরভাঙ্গা মৌজার একটি লেবু বাগানে পরে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে রাতে মির্জাপুর থানা পুলিশ হতভাগ্য ওই দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। শাকিল ও ইমরান বালিয়া ব্রাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো বলে জানা গেছে। শাকিলের বড় দুই ভাই ও বোন রয়েছে। এছাড়া ইমরানের ২ বোন রয়েছে। শাকিলের বাবা দোলেয়ার হোসেন আড়াই বছর ও ইমরানের বাবা আবু বক্কর ২ বছর যাবত ইরাক প্রবাসী।  শনিবার শাকিল এবং ইমরানের লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারে কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল আলম বলেন, হত্যাকান্ড দুটি খুব বেশি পাকা হাতের কাজ নয় বলে জবাইয়ের ধরন দেখে তার ধারণা হচ্ছে।
মির্জাপুর থানার (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, এই মুহুর্তে এই নির্মম হত্যাকান্ড দুটির কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। তাছাড়া হত্যাকারীদের কাউকে শনাক্তও করা যায়নি। তবে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমার বুকের ধন ৫টি টাকা চেয়েছিল
মির্জাপুর থানায় মামলা দিতে এসে নিহত শাকিলের মা বারবার বলছিলেন, আমার বুকের ধন খেলা দেখতে আসার সময় প্রথমে ১০টি টাকা চেয়েছিল। না করায় শেষে ৫টি টাকা চেয়েছিল। কিন্তু তাও দিতে পারিনি। একথা বলেই হাওমাও করে কেঁদে ফেলেন শাকিলের মা জোৎস্না বেগম। তার আহাজারিতে মির্জাপুর থানার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। এ সময় পুলিশ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিসহ উপস্থিত সকলের চোখই অশ্রুসজল হয়ে উঠে। চড় চৌহাট গ্রামের জোৎস্না বেগমের চাচা আমিনুর রহমান জানান, আড়াই বছর ধরে শাকিলের আব্বা ইরাক থাকলেও গত ১৩ মাস ধরে একটি টাকাও সে দেশে পাঠাতে পারছে না। ফলে পরিবারটি আর্থিকভাবে অত্যন্ত অস্বচ্ছল হয়ে পরেছে। নিহত মাকিলের চাচা মির্জাপুর উপজেলার শশধরপট্রি গ্রামের উজ্জল মিয়াও একই কথা জানিয়েছেন।
নিহত ইমরানের চাচা হযরত আলী, তারা মিয়া ও ফুফু মিনু আক্তার বলেন, ইমরানের বাবা আবু বক্কর গত দুই বছর আগে ইরাক যান। সেও পরিবারের কাছে কোন টাকা পাঠাতে পারছেন না। ইরাক যাওয়ার আগে তারা ঢাকায় পুরাতন বিল্ডিং ও মাটি কাটার লেবারের সর্দার হিসেবে কাজ করেছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ