মঙ্গলবার, আগস্ট 4, 2020
Home অর্থ ও ব্যবসা মির্জাপুরে দুই যুগ ধরে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কটন মিলস

মির্জাপুরে দুই যুগ ধরে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কটন মিলস

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইল কটন মিলস বন্ধ রয়েছে প্রায় দুই যুগ ধরে। ফলে মিলের কয়েকশ’ কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও ভবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশাল এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সুতা উৎপাদনের মিলটি বন্ধ থাকার মিলে কর্মরত প্রায় ৩-৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতরভাবে জীবন-যাপন করছে।
সম্প্রতি কটন মিলে গিয়ে দেখা গেছে, মিলে নেই শ্রমিক-কর্মচারীর কোলাহল। মিলটির প্রধান গেটটি শুধুই নিস্তব্ধ স্মৃতি বহন করে আছে। মিল সূত্রে জানা গেছে, ২৬ দশমিক ২৮৫ একর বিশাল এলাকা নিয়ে ১৯৬২ সালে টাঙ্গাইল কটন মিলের এক নম্বর ইউনিটটি চালু হয়। এটিই ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র প্রথম সুতা উৎপাদনের মিল। মিলের উৎপাদন ভালো হওয়ায় ১৯৭৮ সালে দুই নম্বর ইউনিট চালু হয়। এই মিলে হাই-কোয়ালিটির ৮০, ৬০, ৭০ ও ৪০ কাউন্টের সুতা উৎপাদন হতো। মিলের উন্নতমানের সুতা উৎপাদন হওয়ায় বিদেশে রপ্তানিও হতো। দুই ইউনিট মিলে এলাকার ৪/৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। মিলটিকে ঘিরে এখানে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি ডাকঘর, পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠে। মিলটি বন্ধ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে বেকারের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
মিলের সাবেক কর্মচারীদের মধ্যে বাবুল সিকদার (৪৫), আব্দুর রশিদ (৫০) ও রহমান সুবাদর (৫৬) অভিযোগ করে টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল কটন মিলের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সিবিএ নেতাদের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ৮৫-৯০ দশকে মিলটি লোকসানে পরিণত হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিবিএ নেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে দেনার ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ে মিলটি। দেনার ভারে প্রথমে মিলের দুই নম্বর ইউনিট ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পড়ে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচরী। এক নম্বর ইউনিটটি চালু থাকলেও লোকসানের কারণে ২০০৮ সালে এই ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। মিলের দুইটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ৪/৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়ে।
বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল কটন মিলের কয়েকশ’ কোটি টাকার ষন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ভবনগুলোও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া মিলের বেশ কিছু সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিলে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মিলটি দেখভালের জন্য একজন প্রধান নির্বাহীর নের্তৃত্বে দৈনিক বেতনভুক্ত ২৩ কর্মচারী কাজ করে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল কটন মিলের প্রধান নির্বাহী রবিউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, সরকার দেশে বন্ধ মিল চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। টাঙ্গাইল কটন মিলটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আসা করা হচ্ছে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মিলটি পুনরায় চালু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ