মির্জাপুরে গর্ভের সন্তানের বাবা ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রোকসানা

186

golpo_amar_prem_repeatস্টাফ রিপোর্টারঃ

গর্ভের সন্তানের বাবা ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রোকসানা আক্তার। রোকসানা ও তার পরিবার ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় মাতাব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও হতভাগ্য পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। তবে চেয়ারম্যান পরিবারটিকে থানা পুলিশের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে রোকসানার বাবা রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। রেজাউলের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলা সদরে।
জানা গেছে, বিগত ২০০২ সালে দিন মজুর রেজাউল করিম স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল পূর্ব পাড়া গ্রামের আলী আজমের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। রেজাউলের দিন মজুরিতে সংসার ঠিক মত না চলায় মেয়ে রোকসানাকে বেলতৈল গ্রামের হাজী দেলোয়ার মোল্লার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ দেয়। রোকসানা প্রতিদিন গৃহকর্মীর কাজ শেষে সন্ধ্যার পর প্রায় ২শ’ গজ দুরে মা-বাবার কাছে চলে যেতো। দেলোয়ার হাজীর পশ্চিম পাশের বাড়ির এমারত মোল্লার ছেলে সিফাত মোল্লার নজরে আসে রোকসানা। সিফাত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিদিন তাকে উত্যক্ত করতো। এক পর্যায় সিফাত বিয়ের প্রলোভন দিয়ে রোকসানার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিছুদিন যেতে না যেতেই সিফাত রোকসানার সাথে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং রোকসানা অন্তস্বত্তা হয়ে পড়ে। পরে রোকসানা সিফাতকে বিয়ের চাপ দিলে সিফাত অস্বীকার করে। বিষয়টি রোকসানা তার পরিবারকে জানালে রোকসানার বাবা রেজাউল সিফাতের পরিবারকে জানায়। রোকসানাকে স্ত্রী ও তার গর্ভের সন্তানকে স্বীকৃতির দাবি জানালে সিফাতের বাবা এমারত মোল্লা ও মা সেলিনা বেগম বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয় রোকসানার পিতা-মাতাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই গ্রাম থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোকসানা এখন পাঁচ মাসের অন্তস্বত্তা বলে রোকসানার মা রাশেদা বেগম জানিয়েছেন।
রোকসানার বাবা রেজাউল করিম বলেন, এমারত মোল্লা, লুৎফর মোল্লা ও বজলু তার মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য বলে। তিনি তাদের কথা না শুনায় তারা তাকে মারপিট করেছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।  রোকসানার মা রাশেদা বেগম বলেন, মঙ্গলবার সকালে সিফাতের মা সেলিনা বেগম তাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়। ভয়ে তিনি দৌড়ে পাশের বাড়ি আলম সিকদারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে রাশেদার স্বামী রেজাউল করিমও ওই বাড়িতে যায়। সেখানে সিফাতের মা সেলিনা বেগম ও বাবা এমারত মোল্লা, লুৎফর মোল্লা ও রুবেল তাদের গালিগালাজ করেন এবং রেজাউল করিমকে মারপিট করেন। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে রাশেদা বলেন, আমরা দিন মজুর করে সংসার চালায়। থানায় যাবো টাকা পাবো কোথায়। টাকা না থাকায় নিরীহ পরিবারটি আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না বলে জানান। পরিবারটি মেয়ের স্বামী ও গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন।
বেলতৈল গ্রামের আলম শিকদার বলেন, মঙ্গলবার সকালে রোকসানার মা রাশেদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে তার বাড়িতে গিয়ে বলেন, আমাকে আপনারা বাঁচান। আমাকে ওরা মেরে ফেলবে। পেছনে পেছনে সিফাতের মা সেলিনা বেগম ও বাবা এমারত মোল্লাসহ কয়েকজন তার বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করেন এবং রাশেদাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে বলেন। না দিলে অসুবিধা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনাটি রোকসানার পরিবার ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সিকদারকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান রফিক সিকদার পরিবারটিকে থানা পুলিশের আশ্রয় নিতে বলেছেন বলে রোকসানার পিতা রেজাউল করিম জানিয়েছেন। লুৎফর মোল্লা বলেন, মঙ্গলবার সকালে আলম শিকদার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে সিফাতের বাবা-মা গালিগালাজ করেছে। সিফাতের বাবা এমারত মোল্লা রোকসানার বাবা রেজাউলের গলায় ধরেছিলেন বলে তিনি জানান।
সিফাতের বাবা এমারত মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি মিমাংসা করা হবে বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। আজগানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। মেয়ের বাবা লিখিত অভিযোগ করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈন উদ্দিন বলেন, থানায় কোন অভিযোগ পায়নি। ঘটনাটি জানার পর দেওহাটা ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফখরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আহমেদ বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে পরিবারটিকে নারী ও শিশু আদালতে মামলা করতে হবে বলে তিনি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ