মির্জাপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলায় তিন শিক্ষার্থী আহত

67

স্টাফ রিপোর্টার।।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলায় নবম শ্রেণির তিন পরীক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে জামিল হোসেন নামে এক ছাত্রকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নবম শ্রেণির বোর্ড সমাপনী পরীক্ষার কৃষি শিক্ষা বিষয় পরীক্ষা ছিল। এই কেন্দ্রে মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃষি শিক্ষা বিষয় পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের বাইরে আসা মাত্র ১০/১২ জনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দরানীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর রড, লাঠি ও চাকু নিয়ে হামলা চালায়। এতে দরানীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র দারানীপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জামিল হোসেন ও সহিদ মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পেকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফাহাদ আহমেদ আহত হয়। এদের মধ্যে জামিল হোসেন মাথায় গুরুতর আহত হলে তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছে বলে জানা গেছে।





এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাঝেমধ্যেই সদরের বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর নানা অযুহাতে হামলা চালায়। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে তারা এই ধরনের অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আইনের আওতায় না আসায় স্থানীয় লোকজন ছাড়াও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
আহত জামিল, জাহাঙ্গীর ও ফাহাদ জানান, হামলাকারীরা মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র।




আহত জামিলের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। আমি দোষীদের শাস্তির দাবিতে আইনের আশ্রয় নিবো।
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোশারফ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি জেনেছি। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রæত সময়ের মধ্যে অভিভাবকদের ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 




ব্রেকিং নিউজঃ