মির্জাপুরে কাউন্সিলর ও পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানের তালা ভাঙার অভিযোগ

564

এস এম এরশাদ, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৌর মেয়রের নির্দেশ উপেক্ষা করে এক পৌর কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একটি দোকান ঘরের তালা ভেঙ্গে দখলে নেয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১১ মে) দুপুরে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ তালুকদারের উপস্থিতে মির্জাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম খানের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একদল সন্ত্রাসী মির্জাপুর বাজার রোডের মোকাদ্দছ খানের মার্কেটের একটি দোকানের তালা ভেঙ্গে দখলে নেন।
এ ব্যাপারে দোকানের মালিক মোকাদ্দস খান রাতে মির্জাপুর থানা ও প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দিলে তালা ভাঙার সাড়ে আট ঘন্টা পর রাত নয়টার দিকে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ তালুকদার পুণরায় ওই দোকান ঘরে তালা লাগিয়ে দেন বলে দোকানের মালিক জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মোকাদ্দছ খান বাইমহাটী মৌজার ২১১ নং খতিয়ানের ২৪৯ নং দাগে একতলা ভবনের নিচতলার একটি দোকান ঘর গত ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন বছরের জন্য পৌর এলাকার পাহাড়পুর গ্রামের রমজান খানের ছেলে সাহিদ খান ও সোহেল খানের কাছে ভাড়া দেন। মেয়াদ শেষ হলে মোকাদ্দছ খান ভাড়াটিয়াদের জামানতের আড়াই লাখ টাকা স্থানীয় মাতাব্বরদের উপস্থিতিতে ফেরত দেন এবং দোকান ঘর ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। ভাড়াটিয়ারা বিভিন্ন অযুহাতে প্রায় সাড়ে তিন মাস দোকান ঘর না ছাড়ার পায়তারা করতে থাকেন। এ নিয়ে মির্জাপুর পৌরসভায় সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে পৌর মেয়র সালমা আক্তার শিমুল মিমাংসার আগ পর্যন্ত ওই দোকান ঘর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। মেয়রের নির্দেশে দোকান ঘর বন্ধ থাকলেও গত বুধবার (১১ মে) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে কাউন্সিলর শামীম খানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এবং মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ তালুকদারের উপস্থিতিতে রড কাটার মেশিন দিয়ে তালা কেটে দোকান ঘরটি দখলে নেয়ার অপচেষ্টা করেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাতে দোকান ঘরের মালিক মোকাদ্দছ খান থানায় ও প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই এসআই আরিফ তালুকদার রাত নয়টার দিকে পুণরায় দোকান ঘরটিতে তালা লাগিয়ে দেন। তবে তালার চাবি দোকান ঘরের মালিক মোকাদ্দছ খান ও দখল নেয়ার অপচেষ্টাকারীদের দিয়েছেন বলে দোকানের মালিক সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।
গত বছরের ১৯ জুলাই কাউন্সিলর শামীম খান তার ওয়ার্ডের ২৫ জন দুস্থ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র পৌর পরিষদে জমা দিয়ে কৌশলে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
মোকাদ্দছের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও ছেলে মজনু মিয়া অভিযোগ করেন, এসআই আরিফ তালুকদার ও পৌর কাউন্সিলর শামীম খানের উপস্থিতে সন্ত্রাসীরা দোকানের তালা ভাঙে। এতে বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেন।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ তালুকদার জানান, এক পক্ষের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। কোন কিছু বুঝার আগেই অভিযোগকারীরা আমার সামনেই তালা কেটে ফেলেন। পরে রাত নয়টার দিকে পুণরায় ওই দোকান ঘরে তালা লাগিয়ে চাবি উভয় পক্ষকে দিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
মির্জাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, পৌর মেয়রের নির্দেশে ওই দোকান ঘরে তালা দেয়া হয়েছিলো। বুধবার (১১ মে) দুপুরে আমার উপস্থিতিতে এসআই আরিফ সাহেব তালা ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন তাই অভিযোগকারীরা তালা ভেঙেছে বলে তিনি দাবি করেন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, কাউন্সিলর শামীম খান যে কাজটি করেছে তা অত্যান্ত গর্হিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ