মির্জাপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী স্ত্রীর আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন করল স্বামী

131

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। আগামী (১৪ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল তার। কিন্তু ধারালো বঁটি দিয়ে স্বামীর এলোপাতাড়ি আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে এখন হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সুমাইয়া।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। সুমাইয়াকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো বঁটির আঘাতে গুরুতর আহত হয় ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া বোন খাদিজা আক্তার সুমি ও মা নাছিমা আক্তারও। হামলার শিকার তিনজনের হাত, মাথা ও গলায় অন্তত ১৫-২০টি বঁটির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কী কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত সে বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু বলতে পারেনি হামলার শিকার হওয়াদের কেউ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬-৭ মাস পূর্বে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের আমরাতৈল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সাউথ আফ্রিকা ফেরত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সুমাইয়ার। বিয়ের পর সুমাইয়া ৩ মাসের মতো সেখানে ছিল। এরপর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য গত ৩ মাস যাবৎ নিজেদের বাড়ি সোহাগপাড়াতে ছিল। মাঝে মাঝে সাইফুল সুমাইয়াদের বাড়িতে আসত। তবে দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর সাউথ আফ্রিকা থেকে উপার্জিত অর্থের হিসাব নিয়ে সাইফুলের বাবার সঙ্গে সাইফুলের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না বলে জানা গেছে। এমনকি বিয়ের পর থেকে সাইফুল তার স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করতেও ব্যর্থ হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
হামলার শিকার আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার নানি জয়নব টিনিউজকে বলেন, গত রোববার (৭ নভেম্বর) থেকে সাইফুল তাদের বাড়িতে ছিল। শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোরে সুমাইয়ার ডাক চিৎকারে প্রথমে নাছিমা ও পরে সিমু এগিয়ে গেলে সাইফুল ওদের দু’জনকে বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এরপর সুমাইয়ার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো আঘাত করে।
প্রতিবেশী রবিন মিয়া টিনিউজকে বলেন, শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোরবেলা চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে সুমাইয়াদের বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি সুমাইয়া, সুমি ও তাদের মা নাছিমা আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর পুলিশের সহায়তায় তাদের কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে আসি। ঘটনাস্থল থেকে সুমাইয়ার স্বামী সাইফুলকে পুলিশ আটক করে।
দেওহাটা ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক আইয়ুব খান টিনিউজকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমরা সাইফুল ইসলামকে আটক করেছি। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনও অস্পষ্ট। স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার বিচ্ছিন্ন হওয়া কনিষ্ঠ আঙ্গুলটি ডাক্তাররা চেষ্টা করেও জোড়া লাগাতে পারেননি। অপরদিকে সুমাইয়ার মা নাছিমা আক্তারের হাতের রগ কেটে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠনোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ