মির্জাপুরে এনজিও গ্রাহকের ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে দুই পরিচালক

84

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পিপলস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন নামে এক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এক পরিচালক গ্রাহকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা ফেরত পেতে গ্রাহকরা থানায় অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, বিগত ২০০৭ সালে উপজেলার বরাটি বাজারে এই এনজিও স্থাপিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নেওয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর টমি-১৯২৪। পরে এনজিওটি ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গ্রাহক তৈরি করে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করে। মূলধনের বিপরীতে অধিক মুনাফার লোভ দেখালে দুই বছরের মধ্যে তাদের গ্রাহকসংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়ে যায়।




এনজিওটির কার্যক্রম দেখে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের জামাল ভুঞার দুই ছেলে দেলজু ও দেলোয়ার কয়েক বছর পূর্বে ১৫ লাখ টাকা জমা রাখেন। তাদের দেখে একই গ্রামের রহমত খান, শিউলী বেগম, রুমা বেগম ও রজ্জব ভুঞাসহ অনেকেই মোটা অঙ্কের টাকা ওই এনজিওতে জমা রাখেন। প্রথমদিকে এনজিওটির লেনদেন ভালো থাকলেও বিগত তিন বছর ধরে তাদের বরাটি বাজারের প্রধান কার্যালয় বন্ধ করে দিয়ে গোপনে সঞ্চয় সংগ্রহ করতে থাকে। পরে গ্রাহকের মুনাফার টাকা দিতে করতে থাকে নানা টালবাহানা।




এ নিয়ে ভাতগ্রাম ইউপি কার্যালয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহক ভাতগ্রাম দাসপাড়া গ্রামের জামাল ভুঞার ছেলে দেলজুর রহমান সম্প্রতি মির্জাপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে ওই এনজিওর পরিচালক বাবুল হাসান বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি এনজিওটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিপি বেগমও বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন বলে দেলজুর রহমানসহ এলাকাবাসী জানিয়েছেন।




ভুক্তভোগী গ্রাহক রহমত, রজ্জব, রুমা ও শিউলী টিনিউজকে বলেন, আমাদের কাছ থেকে অধিক মুনাফার কথা বলে ১০ লাখ করে টাকা জমা নেন এনজিওটির কর্মকর্তারা। আমাদের প্রয়োজনের সময় টাকা চাইলে ‘দেই, দিচ্ছি’ বলে গত তিনি বছর ধরে টালবাহানা করছে। এখন তাদের খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। এনজিওটির ব্যবস্থাপক লিপি বেগম, সহকারী ব্যবস্থাপক শাহ্ আলম এবং মাঠকর্মী পারভীন আক্তারের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল দিয়েও সেগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।




এ ব্যাপারে ভাতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার বসা হলেও এনজিও কর্তৃপক্ষ তাদের দেওয়া কথা অনুযায়ী কাজ করেনি।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে টিনিউজকে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




ব্রেকিং নিউজঃ