মির্জাপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভবন ধসে ম্যাজিস্ট্রেট আহত ॥ ভবন মালিক গ্রেপ্তার

122

এস এম এরশাদ, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধ ভবন উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ভবন ধসে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া নামক স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ। অভিযানে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে ভবন মালিক শাজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জামুর্কী ইউনিয়নের গোড়ান গ্রামের শুকুর মাহমুদের ছেলে।
আহত সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল লতিফ খান টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি ডান পায়ে ব্যাথা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটি প্রথমে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০১৩ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। ২০১৬ সালে এর কাজ শুরু হয়। মহাসড়কটিতে ১৩টি আন্ডারপাস ও সাতটি ফ্লাইওভার রয়েছে। এটি প্রথমে চার লেনে উন্নীত করার কথা থাকলেও পরে ছয় লেনের কাজের অনুমোদন দেয়া হয়। বর্তমানে চার প্যাকেজে সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। প্রতিটি প্যাকেজের জন্য আলাদা আলাদা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এজন্য রাস্তার পাশের জমি অধিগ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় প্রায় পাঁচ বছর আগে মহাসড়কের পাশে সার্ভিস লেন করতে সরকার বিভিন্ন স্থানে অধিগ্রহণ শুরু করে। সুযোগ বুঝে ওই এলাকায় পার্শ্ববর্তী গোড়ান গ্রামের শাহ মো. শাজাহান নামে এক ব্যাক্তি একটি তিনতলা ও একটি দুইতলা ভবন করেন।
মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার সাটিয়াচড়া এলাকায় সরকারি জমির উপর অবৈধভাবে গড়ে তোলা বিভিন্ন ভবন উচ্ছেদে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের স্টেট ও আইন কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল লতিফ খান।
দুপুরে ভবন ভাঙার জন্য মেশিন লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে তা মুহুর্তের মধ্যে ধসে পড়ে। এ সময় ভবনের কংক্রিটের বড় টুকরো নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল লতিফ খানের পায়ের উপর পড়লে তিনি আহত হন। এ সময় ভবনটির ছাদ পাশেই থাকা পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের খুঁটির উপর পড়লে তা হেলে পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যায়। এতে আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
শাহ মো. শাজাহানের মেয়ে শামীমা আক্তার ও ছেলে শাহ মো. সাইফুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, তাঁদের বাবা নিজেদের জায়গায় ভবন করেছেন। সরকার থেকে বলা হচ্ছে জায়গাগুলো অধিগ্রহণ করা। কিন্তু তাঁরা অধিগ্রহণের কোন টাকা তুলেননি। ভবনটি উচ্ছেদের জন্য তাঁদের কোন চিঠিও দেয়া হয়নি।
মুঠোফোনে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল লতিফ খান টিনিউজকে বলেন, ব্যাক্তি শাজাহান ফল্্স বিল্ডিং করে রেখেছে তা আমাদের জানা ছিলো না। আমাদের কর্মীরা যখন উচ্ছেদ করতে গেল তখন তা ঝুর ঝুর করে পড়ে গেলো। আল্লাহর রহমতে অন্য কারও কিছু হয় নাই। বিল্ডিং দুইটির মধ্যে একটি আগের একোয়ার করা জায়গায়। আর তিন তলাটি নতুন ভাবে একোয়ার করার জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন দুইটি আমাদের রোডস্্ এর জায়গায় করা।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন টিনিউজকে জানান, এ ঘটনায় সওজ এর উপসহকারি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা করেছেন।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ