মির্জাপুরে আ.লীগ নেতা পৌর কাউন্সিলরের শ্লীলতাহানী চেষ্টার ভিডিও ভাইরাল

1,092

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার এক কাউন্সিলরের শ্লীলতাহানী চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম খান এক নারীকে টেনে ধরে জোরপূর্বক জাপটে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করছেন। কাউন্সিলরের এই ঘটনাটি গত (১২ অক্টোবর) রাস্তার পাশে একটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পড়ে তা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওর এই দৃশ্য গত দুই সপ্তাহ ধরে মির্জাপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।




জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামীম খান গত (১২ অক্টোবর) রাতে তার ওয়ার্ডের মুসলিম পাড়ার এক বাড়িতে জন্মদিনের দাওয়াতে যান। এ সময় এক নারীকে কৌশলে বাড়ির বাহিরে ডেকে আনেন। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর ওই নারী চলে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় শামীম ওই নারীকে পেছন থেকে টেনে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি মুসলিমপাড়া-পাহাড়পুর রাস্তায় থাকা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে ওই নারী কোথাও এ ব্যাপারে অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে একাধিক অপকর্মের অভিযোগ উঠায় দলের ভাবমুর্তি রক্ষার জন্য স্থানীয় লোকজন তাকে দলীয় পদ এবং পৌর পরিষদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।




এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিরর শামীম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তার নিজের নয় দাবি করে টিনিউজকে বলেন, ছবিটি আমার। ঢাকা থেকে আসা মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা আলাউদ্দিন মিন্টু নামে এক ব্যক্তি আমার মাকে বলেছেন, শামীমকে দেখে নেবো। মিন্টু ওই ভিডিওটি বানিয়ে ভাইরাল করেছে। জন্মদিনের দাওয়াত থাকায় ওই সময় তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে জানান।




উল্লেখ্য, এর আগে গত (১১ মে) পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুলের নির্দেশ উপেক্ষা করে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ তালুকদারের উপস্থিতিতে শামীম খান ১০/১৫ জনের একদল সন্ত্রাসীদের নিয়ে মির্জাপুর বাজারের বাসিন্দা মোকাদ্দেছ খানের মার্কেটের একটি দোকানের তালা ভেঙ্গে দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া গত (১৯ জুলাই) ওই ওয়ার্ডের দরিদ্র মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পৌর পরিষদে জমা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ২৫ জনের অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগও রয়েছে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে আলাউদ্দিন মিন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে জানান, ভিডিও বানানো যায় না। এছাড়া মামলার বিষয়টিও সম্পুর্ন মিথ্যে। এ ঘটনার পর থেকেই কাউন্সিলর শামীম তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে চলেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।




এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ টিনিউজকে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার দাবি করলে শামীমের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল টিনিউজকে জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 

ব্রেকিং নিউজঃ