মির্জাপুরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ৫ গৃহে পৌঁছেনি বিদ্যুৎ

64

এরশাদ মিঞা, মির্জাপুর ॥
“বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৩০২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দেয়া হয়। গত বছরের (২৩ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। এরপরই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহার এই গৃহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওইসব ঘরের ৫টি ঘরে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় ওইসব ঘরে বসবাস করছে না গৃহ পাওয়া গরীব মানুষগুলো। বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে টাকা জমা দিলেও মিটার পাননি বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
তরফপুরের শিরঘাটা এলাকার ৪টি এবং মীর দেওহাটা এলাকার ১টি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া শিরঘাটা এলাকায় আব্দুল আলীমের ঘরে লাগানো বিদ্যুতের মিটার ভেঙ্গে গেলেও তা পরিবর্তন করা হয়নি। এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসরত পরিবারগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হচ্ছে ‘আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প।’ গত বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা এলাকায় ২৫৮ শতাংশ ভূমির মধ্যে ১০৭টি, খামারপাড়া এলাকায় ৫০ শতাংশ জমির উপর ১৭টি, তরফপুর ইউনিয়নের শিরঘাটা এলাকায় ১৫০ শতাংশ জমির উপর ২১টি, আজগানা ইউনিয়নের মজিদপুর এলাকায় ১৩৮ শতাংশ জমির উপর ২৪টি, জামুর্কী ইউনিয়নের চুকুরিয়া এলাকায় ৩০ শতাংশ জমির উপর ১০টি, উফুল্কী এলাকায় ১৫ শতাংশ জমির উপর ৩টি, বানাইল ইউনিয়নের নরদানা এলাকায় ৭৪ শতাংশ জমির উপর ২৪টি ও থলপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০২টি পরিবারকে জমিসহ ঘর দেয়া হয়। ইতমধ্যে পরিবারের প্রধানের নামে জমি রেজিস্ট্রিও করে দিয়েছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিস। এসব ঘরের মালিকরা বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে চারশত টাকা করে জমাও দিয়েছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় তারা ঘরে বসবাস করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
তরফপুর শিরঘাটা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ঘর পাওয়া ২১টি পরিবারের মধ্যে ৪টি পরিবার বসবাস করছে। ২১টি ঘরের চারটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ লাগেনি। এছাড়া আব্দুল আলীমের ঘরের মিটার ভেঙ্গে ঝুলে আছে। এ সময় রওশনারা বেগম নামে এক বৃদ্ধার কাছে জানতে চাইলে তিনি টিনিউজকে বলেন, মিটারটি ভেঙ্গে থাকলেও অন্য মিটার দেয়া হয়নি।
গৃহ পাওয়া হান্নান মিয়ার ঘরে বসবাস করছেন সোহেলের স্ত্রী রোজিনা বেগম। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়া চারটি ঘরসহ বাকি ঘরের মালিক কে কে তা তিনি বলতে পারেননি। আলীমের ঘরের মিটার ভেঙ্গে পড়ায় আমরা ঝুঁকিতে আছি। ফতেপুর গ্রামের মালেকা বেগমের ছেলে আয়নাল মিয়া টিনিউজকে জানান, তার মায়ের নামে মীর দেওহাটা এলাকায় জমিসহ ঘর দেয়া হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। এজন্য বৃদ্ধ মা ওই ঘরে বসবাস করতে পারছে না।
মির্জাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জোবায়ের হোসেন টিনিউজকে জানান, আমরা ৩০২টি পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর করেছি। তাদের নামে জমিও রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে। ওইসব গৃহে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বলে তিনি জানান।
পল্লী বিদ্যুৎ মির্জাপুর জোনাল অফিসের (ডিজিএম) জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, মির্জাপুর অফিসের আওতাভূক্ত সব গৃহে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়া পরিবারের বিষয়টি আমার জানা নেই।
পল্লী বিদ্যুৎ গোড়াই জোনাল অফিসের (ডিজিএম) কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, শিরঘাটা এলাকার ২১টি গৃহের মধ্যে ২০টি গৃহে সংযোগ দেয়া আছে। তবে মিটার ভাঙার বিষয়টি আমার জানা নেই।

 

ব্রেকিং নিউজঃ