মির্জাপুরে আধা ঘন্টার মধ্যে ৭ গরুর রহস্যজনক মৃত্যু

62

এস এম এরশাদ, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আধা ঘন্টার মধ্যে দুধের গাভীসহ প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৭ গরুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আধা ঘন্টার মধ্যে ৭ গরু মৃত্যুর এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৩ মে) রাতে মির্জাপুর পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড পাহাড়পুর গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকার গরু মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রবাসী আমিনুর রহমানের স্ত্রী ইলা বেগম বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৫ বছর আগে নিজ বাড়িতে একটি গরুর খামার করেন। সেখানে তিনি হলিস্টান ফ্রিজিয়ান, অস্ট্রেলিয়া ও দেশী প্রজাতির দুধের গাভীসহ ৯টি গরু লালন পালন করতেন। খামারটিতে তিনি নিজেই খাস চাষ করতেন এবং কেটে আনতেন। ঘাষ খাওয়ান থেকে শুরু করে গরুগুলোকে নিজেই গোসল, গোয়াল ঘর পরিস্কার করতেন। প্রতি বছর এই খামার থেকে কোরবানির আগে ৩/৪টি করে ষাঁড় গরু বিক্রি করতেন। গত দুুই বছর আগে তিন লাখ টাকা দিয়ে একটি ইলস্টান ফ্রিজিয়ান গাভী কিনেন। ওই গাভী প্রতিদিন ১৫ লিটার দুধ দিত। এতে তার সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা আসে। শুক্রবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাতটার দিকে হঠাৎ দুধের গাভীটি মারা যায়। এরপর আধাঘন্টার মধ্যে একে একে একটি গর্ভবতী গাভীসহ আরও ৫টি ষাঁড়ের মৃত্যু ঘটে। এতে ৭টি গরুর মৃত্যুতে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ইলা বেগম জানিয়েছেন। তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। তারা সকলেই মাদরাসায় লেখাপড়া করে।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলী আজম খান টিনিউজকে জানান, আধাঘন্টার মধ্যে ইলা বেগমের সাতটি গরুর মৃত্যুতে ওই গ্রামের গরুর মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে খামারের মালিকও স্বর্বশান্ত হয়েছেন। খামারের মার্লিক ইলা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে টিনিউজকে জানান, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গত ৫ বছর আগে খামারটি করেন। খামারটিতে একটি দুধের গাভীসহ ৯টি গরু ছিলো। আমার ছেলেমেয়ের মতো যতœ নিয়ে গরুগুলো লালন-পালন করতেন। আধা ঘন্টার মধ্যে ৭টি গরুর মৃত্যু হওয়ায় আমি স্বর্বশান্ত হয়েছি। খামারটি আবার গরু দিয়ে পরিপূর্ণ করতে পারি সেজন্য সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করি।
মির্জাপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ টিনিউজকে জানান, বৃষ্টির পড়ে গজানো ঘাষে ন্যাট্রিক এসিড থাকতে পারে। এ ধরনের ঘাষ খেয়ে সাতটি গরুর মৃত্যু হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানার জন্য মৃত গুরুর মাংস ঢাকায় পাঠানো হবে। এছাড়া খামারের মালিক ইলা বেগম আর্থিকভাবে মারাতœক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাকে আর্থিক সহায়তা করার চেস্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

 

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ