মির্জাপুরে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

74

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ায় সুইসাইট নোট লিখে কলেজ ছাত্রী তানিয়া আক্তার (১৮) আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনাকারী সুজন মিয়ার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন করেছে মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এই মানববন্ধনে তানিয়ার পরিবারের লোকজন ও বুড়িহাটী নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

বুধবার (২৮ সেপ্টম্বর) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাসের অদুরে বাওয়ার কুমারজানী এলাকার মা সিএনজি স্টেশনের সামনে এই মানবন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। তারা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানবন্ধনে যোগ দেন।

এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, প্রভাষক আমিনুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রী তানিয়ার বাবা হারুন মিয়া এবং তানিয়ার সহপাটি তাছলিমা জাহান ও অপর্ণা ইসলাম বক্তৃতা করেন।
বক্তারা বলেন, তানিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী সুজন মিয়ার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর কোন তানিয়া যেন এভাবে অকালে ঝড়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানানো হয়।
তানিয়া উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সিংজুড়ি গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে। সে মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী ছিল।

উল্লেখ, উপজেলার বুড়িহাটী গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে সুজন মিয়ার প্রেমের ফাঁদে ফেলে তানিয়ার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। নোংরা মনের সুজন সুজোগ বুঝে তানিয়ার নগ্ন ভিডিও গোপনে মোবাইলে ধারণ করে। ওই ভিডিও দিয়ে জিম্মি করে তানিয়ার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সুজন মিয়া। এরপর তার চাহিদামত টাকা দিতে না পারায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরও করে তানিয়াকে। একপর্যায তানিয়ার নগ্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয় সুজন মিয়া। এতে তানিয়া মানুষিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে তানিয়া একটি সুইসাইট নোট লিখে তার বসত ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তানিয়ার আত্মহত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সুজন গা ঢাকা দেয়।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার তানিয়ার বাবা হারুন মিয়া বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুজন মিয়াকে আসামী করে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে তানিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী সুজন মিয়া মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর ) টাঙ্গাইল আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠান।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু সাইদ বলেন, কলেজ ছাত্রী তানিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী সুজন মিয়া আদালতে আত্মসমর্পন করেছে। সুজন মিয়াকে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ