মির্জাপুরে অভিযোগ করেও বন্ধ হচ্ছে না নদীর মাটি কাটা

75

এসএম এরশাদ, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিএনপি ও যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে নদীর মাটি লুট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজিব হোসেন ও যুবলীগ নেতা প্রান্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে লৌহজং নদীর গুনটিয়া সেতু ও গুনটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি লুট করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মাটিবোঝাই দশ চাকার ড্রাম ট্রাক ভর্তি করে এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক যাতায়াত করায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আগামী বর্ষায় সেতু ও বিদ্যালয়টি ঝুঁকিতে পড়বে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন। মাটি লুটের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না মাটি কাটা।
এছাড়া গুনটিয়া-পাকুল্যা সড়কে মাটি ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের দুইপাশের বাড়িঘর ধুলায় ঢেকে গেছে। মাটি বিক্রেতাদের ভয়ে তারা কোন প্রকার প্রতিবাদও করতে পারছে না বলে অভিযোগে জানা গেছে। এছাড়া নদীর পার থেকে মাটি কাটার কারণে নদীর তীরবর্তী জমিও নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। উপজেলা পরিষদের সভায় একাধিকবার মাটি কাটার বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি বলে ইউপি চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল জানিয়েছেন।
গুনটিয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা টিনিউজকে জানান, জামুর্কী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজিব হোসেন ও পাকুল্যা গ্রামের যুবলীগ নেতা প্রান্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে লৌহজং নদীর গুনটিয়া সেতুর দক্ষিণ ও সেতুর পশ্চিম এবং গুনটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে প্রায় দুই মাস আগে থেকে মাটি কাটা শুরু হয়। প্রতিদিন সন্ধা সাতটার পর থেকে ভোর পর্যন্ত দুইটি ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হয়। ওইসব মাটি দশ চাকার ভাড়ি ড্রাম ট্রাক ভর্তি করে গুনটিয়া সেতুর ওপর দিয়ে অন্যত্র নেয়া হয়। এ কারণে সেতু ও গুনটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর মাটি কাটার কারণে ইতোমধ্যে বর্ষায় নদীর তীরবর্তী অনেক জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া গত বছর গুনটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবনও নদী গর্ভে চলে গেছে। আগামী বর্ষায় বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজিব হোসেন ও প্রান্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে গুনটিয়া সেতুর দক্ষিণ ও পশ্চিম এবং বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে দুটি এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে নদীর পাড় ও নদী থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। আগামী বর্ষায় সেতু ও বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। মাটি ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলায় সড়কের আশপাশের বাড়িঘর ঢেকে গেছে। এছাড়া ওই সড়কে ধুলা ও কাঁদা থাকায় চলাচলরত যানবাহনের স্টাফ এবং যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। মাটি ব্যবসায়ীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদও করতে পারছেন না।
সেতুর পাশে গুনটিয়া গ্রামের কয়েকজন মুদি ব্যবসায়ী টিনিউজকে জানান, গুনটিয়া সেতু দিয়ে মাটি বোঝাই প্রায় ৪০ টন ওজনের ৪০-৫০টি ট্রাক সারারাতে ৩০০ বার যাওয়া-আসা করে। যেভাবে ট্রাক চলছে তাতে আগামী বর্ষায় সেতুটি ধসে যাবে। ধুলার কারণে আমরা দোকানে বসে থাকতে পারি না। মালামাল সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মাটি ব্যবসায়ী রাজিব হোসেন ও প্রান্ত চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তারা টিনিউজকে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি পেয়ে তারা মাটি কাটছেন। যেখানে মাটি কাটছেন ওই জমিগুলো রেকর্ডের জমি বলে তারা দাবি করেন।
গুনটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার সাহা টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের সামনে খাস জমি থেকে মাটি কাটায় বিদ্যালয়টি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ওই খাস জমি বিদ্যালয়ের নামে পাওয়ার জন্য টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
জামুর্কী ইউপি চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল টিনিউজকে জানান, নদী ও নদীর পার কাটায় গত বছর গুনটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন ধসে গেছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার বলা হলেও মাটি কাটা বন্ধ করা যায়নি। মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে বর্ষায় সেতু ও বিদ্যালয়টি ঝুঁকিতে পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান টিনিউজকে জানান, উপজেলা প্রশাসন কাউকে মাটি কাটার অনুমতি দেয় না। তবে খোঁজ নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ