মির্জাপুরে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হলেন পরিচালনা পর্ষদ সদস্য ॥ নিয়োগ নৈরাজ্য

362

স্টাফ রিপোর্টার ॥
শিক্ষক সমিতির টাকা আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্যসহ অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম মোহসীন।

সহকারি শিক্ষক থেকে মাত্র সাত বছরে প্রধান শিক্ষক হওয়া, গোপনে স্কুলের জমি বন্ধক, বয়স কমিয়ে নৈশ প্রহরী নিয়োগ, অফিস সহকারিকে সহকারি শিক্ষক পদে পদায়নের আশ্বাসসহ অফিস সহকারি নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের মত চাঞ্চল্যকর নানা অভিযোগ রয়েছে ওই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নতুন কমিটির বিরুদ্ধে উঠেছে টাকার বিনিময়ে একাধিক সৃষ্ট পদসহ নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পায়তারার অভিযোগ। যা হাসিলে রয়েছে সাড়ে চার বছর চাকুরি করা সত্ত্বেও বর্তমান প্রধান শিক্ষককে অনলাইন এমপিও ভুক্তির আবেদনের রেজুলেশন না দেয়ার কৌশল।

এতে চাকুরি হুমকিসহ সরকারি বেতন ভাতাদী না পেয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রধান শিক্ষকসহ পরিবারের সদস্যরা। তেমন নানা অভিযোগে বিতর্কিত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নতুন পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য করায় বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় অভিভাবকসহ স্থানীয়রা। বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত পরিচালনার দায়িত্বরত কমিটি বাতিলের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগিরা। নিয়োগ নৈরাজ্যসহ নিয়মের অসংখ্য ব্যত্যয় ঘটিয়ে এমনটাই ঘটছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা আদাবাড়ী গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

 

জানা যায়, বিগত ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আদাবাড়ী গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের EIIN-NO-১১৪৪৮৩ কোড নং-৪৬৩১। ২০০ শতাংশ জমির উপর এ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মিত হলেও বিদ্যালয়ের নামে রয়েছে ৫৭৩ শতাংশ জমি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩২০জন, শিক্ষক ১২, অফিস সহকারি (করনিক) ১ আর নৈশ প্রহরী ১জন।

স্থানীয়দের অভিযোগ আর নথিপত্রে জানা যায়, বিগত ১৯৯২ সালে আদাবাড়ী গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন রায়হানুল আলম মোহসীন। বিগত ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসর গ্রহণ করার ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারি প্রধান শিক্ষক ভোলা নাথ বণিক। এ সময় সহকারি শিক্ষক ছিলেন রায়হানুল আলম মোহসীন। এর কয়েকদিনের মাথায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদটি বাগিয়ে নেন রায়হানুল আলম মোহসীন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী প্রধান শিক্ষক অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী সহকারি প্রধান শিক্ষক/ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী প্রধান শিক্ষক পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ এমপিওভুক্ত পদে সর্বমোট ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বিধান থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব আর কুটকৌশলে আদাবাড়ী গহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে ৬ বছর আর ১ বছরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালের (১ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হন রায়হানুল আলম মোহসীন। চার প্রার্থীর অংশগ্রহণ করলেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ও সদস্য সচিব ছাড়াই ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠণের মাধ্যমে নেয়া হয় ওই নিয়োগ পরীক্ষা।

ওই পরীক্ষায় নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েই অসঙ্গতিপূর্ণ রেজুলেশন এর মাধ্যমে ও টাইম স্কেল অনুযায়ি সরকারি পূর্ণ বেতন উত্তোলন করেন। এছাড়াও জাল সার্টিফিকেট, বয়স জালিয়াতি আর জাল নিবন্ধন তৈরির মাধ্যমে নিবন্ধন বিহীন শিক্ষক ও কর্মচারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়কে গড়ে তোলেন টাকা কামানোর অন্যতম উৎস। টাকা কামানোর নগ্নতায় বিগত ২০০৩ সালে বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের মটেশ্বর মৌজার ২৩৩ শতাংশ জমি স্থানীয় গৌর মন্ডল নামের এক ব্যক্তিকে তিনি। তবে অদ্যাবধিও বন্ধককৃত ওই জমির কোন মুনাফা পায়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

একই সাথে শুরু করেন নিয়োগ বানিজ্য। যার ধারাবাহিকতায় বিগত ২০১১ সালের (২৮ মার্চ) আদাবাড়ী গহের উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সম্মতিক্রমে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ডিগ্রী ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমাসহ সমগ্র শিক্ষা জীবনে একটি তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে একজন সহকারি গ্রন্থাগারিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাসহ পরবর্তীতে একাধিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই সালের (১৮ মে) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন রফিকুল ইসলাম। তবে ওই প্রার্থী দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা পাশ করেছেন বিগত ২০১৪ সালে। ডিপ্লোমা পাশের সনদ ছাড়া ওই নিয়োগ কিভাবে বৈধ হলো এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের। প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম মোহসীন ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই প্রার্থীর নিয়োগ বৈধ করেছেন বলে দাবি তাদের। ৩৫ বছর সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করে নৈশ প্রহরী নিয়োগের বিধান সত্বেও বিগত ২০১৩ সালের (৬ জুন) বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে মাত্র ২৮ বছর বয়স দেখিয়ে ৫১ বছর বয়সী জিন্নাত আলী নামের একজন নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেন প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম। তবে জিন্নাত আলী চাকুরির নিয়োগপত্রের জন্ম তারিখ ১৯৮৫ সালের (৩০ ডিসেম্বর) হলেও ৯৫৫৭৩৪৯৮২৭ নং জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ ১৯৬২ সালের (১৪ এপ্রিল)। এছাড়াও নৈশ প্রহরী জিন্নাত আলীর মেয়ের জন্ম ১৯৮২ আর ছেলের জন্ম হয়েছে ১৯৯০ সালে। ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই নৈশপ্রহরীর নিয়োগটিও দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম মোহসীন। এছাড়াও সভাপতি ছাড়া ওই নিয়োগ কমিটিতে নিয়োগটি চূড়ান্ত করা হয়।

 

বিগত ২০১০-১৫ সাল পর্যন্ত দুই দফায় মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারি সমিতির সভাপতি ছিলেন আদাবাড়ী গহের উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রায়ানুল আলম মোহসীন। সমিতির সভাপতি থাকাকালীন সময় সমিতি প্রায় দেড় কোটি আত্মসাৎ করেন। ওই অভিযোগে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয় তার বিরুদ্ধে। তবে তিনি স্থানীয় প্রয়াত সংসদ সদস্যের আত্মীয় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি ওই সমিতি। এর আগে বিগত ২০১৪ সালে মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে অফিস সহকারি পদে চাকুরি দেয়ার প্রলোভনে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ ৪০ হাজার টাকা দামের একটি কম্পিউটার নেন তিনি। তবে অদ্যাবদিও চাকুরি অথবা টাকা ফেরত পাননি তিনি। একই বছর ওই বিদ্যালয়ে অফিস সহকারি পদে কর্মরত শাহানা হায়দারকে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাসে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম মোহসীন। তবে এখনও তিনি অফিস সহকারি পদেই বহাল রয়েছে। এছাড়াও ফেরত পাননি পদোন্নতির জন্য দেয়া ওই টাকা।

এরপর বিগত ২০১৬ সালের (৪ মার্চ) অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও নিয়ম বর্হিভুত রেজুলেশনের মাধ্যমে বিগত ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ২০ হাজার টাকা করে বেতন নেন তিনি। এ সময় তিনি বিদ্যালয় থেকে বেতনের নামে নিয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

নৈশপ্রহরী জিন্নাত আলী বলেন, আমি স্থানীয় ও গরীব মানুষ হওয়ায় তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম মোহসীন স্যার আমাকে চাকুরি দিয়েছেন। ওই নিয়োগ পরিক্ষায় আমি প্রথম হয়েছিলাম। এছাড়া চাকুরি নিতে আমি কোন টাকা পয়সা দিইনি। চাকুরিতে আমার বয়স ১৯৮৫ সাল হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে আছে অন্যটি।

সহকারি গ্রন্থাগারিক রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ পরিক্ষায় আমি প্রথম হয়ে চাকুরি পেয়েছি। টাকা দেয়ার বিষয়টি মিথ্যা। বিগত ২০১১ সালের দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের টাঙ্গাইল শাখা থেকে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা পাশের সার্টিফিকেট দিয়ে আমি চাকুরি পাই। তবে ওই সার্টিফিকেট নিয়ে নানা ধরণের জটিলতা দেখা দেয়ায় পরবর্তীতে বিগত ২০১৪ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি শাখা থেকে পুণরায় গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করি।

ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাকে অফিস সহকারি পদে চাকুরি দেয়া জন্য বিগত ২০১৪ সালে নগদ আড়াই লাখ টাকাসহ ৪০ হাজার টাকা দামের একটি কম্পিউটার নেন আদাবাড়ী গহের উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম। তবে এখনও আমাকে চাকুরি দেয়া হয়নি। এছাড়াও আমার টাকা ও কম্পিউটার ফেরত দেননি। টাকার জন্য উনাকে চাপ দেয়া হলে তিনি এখনও বলেন আমাকে চাকুরি দেয়া হবে।

 

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি শাহানা হায়দার বলেন, বিগত ২০১৪ সালে আমি বিদ্যালয়ে অফিস সহকারি পদে কর্মরত থাকা অবস্থাতেও আমাকে সহকারি শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়ার আশ্বাসে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম। তবে তিনি আমাকে সহকারি শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেননি। এখন আমার কাছ টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছেন তিনি। তবে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর স্টেটমেন্ট আমার কাছে প্রমান স্বরূপ রয়েছে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারি সমিতির সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, সমিতির তৎকালীন ৬৪০ জন সদস্যের জমানো টাকা ও পাঠ্যপুস্তক নির্বাচন করার ৭০ লাখ টাকাসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তৎকালীন সভাপতি ও আদাবাড়ী গহের উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম। টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রচার হয়। তবে তিনি স্থানীয় প্রয়াত সংসদ সদস্যের আত্মীয় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তিনি বলেন, আদাবাড়ী গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ে চার বছর চাকুরি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত মশিউর রহমানও তাদের হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। তাদের নেতৃত্বাধীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অসহযোগিতার কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ এমপিও ভুক্তি বঞ্চিত রয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক। যার ফলে চরম মানবেতন জীবন করছেন তিনিসহ তার পরিবার।

আদাবাড়ী গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, আমি বিগত ২০১৮ সালের (৩০ এপ্রিল) থেকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছি। তবে নিয়োগ জটিলতার কারণে অদ্যাবধিও আমি এমপিও ভুক্তির আবেদন করতে পানিনি। এ কারণে আমার চাকুরির চার বছর অতিবাহিত হলেও সরকারি কোন বেতন ভাতাদী পাইনি। উচ্চ আদালতে নিয়োগ জটিলতা নিরসন হওয়ায় সর্বশেষ শিক্ষা ভবন থেকে আমাকে এমপিও ভুক্তির অনলাইন আবেদন করতে অনুমতি দিয়েছেন। অনুমতিপত্রটি আমি রেজুলেশন করার জন্য পরিচালনা কমিটিতে দাখিল করি। তবে প্রায় দুই মাস হলেও পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ দেই দিচ্ছি বলেও অদ্যাবধিও সেই রেজুলেশন করে দেননি। এ কারণে আমি এমপিও ভুক্তির অনলাইন আবেদনটি করতে পারছি না। যার ফলে আমি সরকারি বেতন ভাতাদী বঞ্চিত রয়েছি। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটি আমাকে প্রধান শিক্ষক পদ থেকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেয়ার চেষ্টায় এমপিও ভুক্তি অনলাইন আবেদনের জন্য রেজুলেশনটি করে দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, রায়হানুল আলম মোহসীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সময়ে একাধিক নিয়োগে অনিয়ম করেছেন। ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট ছাড়া সহকারি গ্রন্থাগারিক নিয়োগ, বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে নৈশ প্রহরী নিয়োগ, টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ের ২৩৩ শতাংশ জমি গোপনে বন্ধক দেয়াসহ অবসর গ্রহণের পর নিয়ম বর্হিভুত ভাবে টানা ১১ মাস বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ২০ হাজার টাকা করে বেতন গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।
ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম মোহসীনের বক্তব্য নেয়া যায়নি।

আদাবাড়ী গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বিভাস চন্দ্র নুপুর বলেন, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম মোহসীনের বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করেননি। আইন সম্মত ও লিখিত অভিযোগ দিলে তার সদস্য পদ বাতিল করা হবে। এছাড়াও বর্তমানে দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না বলে তার এমপিও ভুক্তির অনলাইন আবেদনের রেজুলেশন দেয়া যাচ্ছেনা। বেশকয়েকটি পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে এখনও কোন নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ