মির্জাপুরের ভাতগ্রাম ইউপিতে আবারও রেকর্ড করলেন আজাহারুল

228

এরশাদ মিঞা, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার অন্যতম প্রভাবশালী গ্রাম ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল। ষাটের দশক থেকে এ গ্রামেরই কেউ না কেউ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। কখনও আওয়ামী লীগ সমর্থিত, কখনও বিএনপি সমর্থিত ব্যক্তিরাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিগত ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে দীর্ঘ ছয় যুগের ধারাবাহিকতা ভেঙে আবরও রেকর্ড করলেন বাম ধারার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কুইচতারা গ্রামের আজাহারুল ইসলাম।
ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু সাইদ মিয়া ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বরকত উল্লাহ সরকারকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত বুধবার (৫ জানুয়ারি) পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোড়াইল গ্রামের বাসিন্দা তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন সিদ্দিকী ও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
স্থানীয়রা টিনিউজকে জানান, স্বাধীনতার আগে ও স্বাধীনতার পরে গোড়াইল গ্রামের মরহুম আনছার আলী মৃধা, মোজাফ্ফর আলী সরকার, বরকত উল্লাহ সরকার ও মোবারক হোসেন সিদ্দিকী ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ১৯৭২ সালে কুইচতারা গ্রামের তোজাম্মেল হোসেন সিদ্দিকী রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিগত ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিগত ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ভাতগ্রাম ইউনিয়নে আজাহারুল ইসলাম বিগত ২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোবারক হোসেন সিদ্দিকীর কাছে অল্প ভোটে পরাজিত হন।
বিগত ২০১৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু সাইদ মিয়াকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথম ভাতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এবারও তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন সিদ্দিকীর চেয়ে পাঁচ হাজার ৪৪ ভোট বেশি পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। মোবারক হোসেন সিদ্দিকীর গোড়াইল গ্রামের ভোটকেন্দ্র ছাড়া বাকি আট ভোটকেন্দ্রে আজাহারুল ইসলাম বিজয়ী হন। নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন তিন হাজার ৫০২ ভোট। বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদৎ হোসেন পেয়েছেন এক হাজার ৪৮০ ভোট।
ঘুঘী গ্রামের মিল্টন মিয়া, ভাতগ্রামের অবিনাষ কুমার, ইচাইল গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন, মনসুর দুল্যা গ্রামের সাইফুল ও মিল্টন, বেগম দুল্যা গ্রামের সোহাগসহ অনেকেই টিনিউজকে জানান, আজাহারুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নাগরিক সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিচ্ছেন। জন্ম ও মৃত্যু সনদ প্রাপ্তিতে হয়রানি ছাড়া সেবার ব্যবস্থা করেন। ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সেবা প্রত্যাশীকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় না। এছাড়া ওই ইউনিয়নের ওপর দিয়ে মির্জাপুর-উয়ার্শী-বালিয়া আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানি ছাড়া জমি মালিকদের ওয়ারিশান সনদ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করেন। এছাড়া যেকোন স্থানে পেলেই তার কাছ থেকে নাগরিক সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর নেয়া যায়। এসব জনকল্যাণমুখী কাজের কারণে জনগণ তাকে এবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন।
ভাতগ্রাম ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, মানুষের ভালোবাসাই তার প্রধান শক্তি। এলাকাবাসীর পাশে থেকে তাদের জন্যই সব সময় কাজ করে যেতে চান তিনি।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ