মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির ২২ বছর

125

শাহরিয়ার সৈকত, মাভাবিপ্রবি ॥
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা আর গবেষণার বদৌলতে মানুষ আজ অনেক অজানাকে জেনেছে, অসাধ্যকে সাধন করেছে এবং পৌছেছে উন্নতির স্বর্ণশিখরে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব আজ সমগ্র পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত ও অনস্বীকার্য। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তােলার লক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বর্তমানে গবেষণায় বাংলাদেশে ২য় অবস্থানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়কসহ বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলােতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি বর্তমানে দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পছন্দের অন্যতম তালিকায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী সন্তোষে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘােষণা দেন। ১৯৭০ সালের (৮ সেপ্টেম্বর) সন্তোষে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী “আমার পরিকল্পনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” শিরোনামে একটি লিখিত বক্তব্য (নিবন্ধন) এর মাধ্যমে মাওলানা ভাসানী তার প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) এর চূড়ান্ত প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় এর ৫টি মূলনীতি ছিল ? ক. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্যে যে কোন একটি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকবে। খ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার দৈহিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। গ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে তার ধর্মের মূলশিক্ষা বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে দান করা হবে এবং তা অনুশীলন করা বাধ্যতামূলক থাকবে। ঘ. কেরােসিন তৈল ও লবণ ছাড়া বাকী সবকিছু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উৎপাদন করে নিতে হবে । ঙ. প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাবর্ষগুলির মধ্যে চার-পাঁচ সপ্তাহ কাল প্রত্যন্ত গ্রামে কিংবা শিল্প এলাকায় হাতে কলমে কাজ করতে হবে।
নানা প্রতিবন্ধকতার পর ১৯৯৯ সালের (১২ অক্টোবর) তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় ২০০১ সালের (১২ জুলাই) এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে ২০০৩ সালের (২৫ অক্টোবর)। যা টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। ৫৭.৯৫ একর (২৩.৩২ অধিগ্রহণকৃত) আয়তনের উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের অধীনে ১৮ টি বিভাগ চালু রয়েছে। সম্প্রতি ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগ খোলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৩৩ জন (ছাত্র: ৩১০৩ জন ও ছাত্রী: ২২৩০ জন) শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে ৪৩২৬ জন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৯৬৮ জন, পিএইচডিতে ১৫ জন ও পিজিডি-ইন-আইসিটি ২৪ জন অধ্যয়নরত। সর্বমোট শিক্ষক সংখ্যা ২৪৩ জন (পুরুষ: ১৮১ জন ও নারী: ৬২ জন)। যার মধ্যে অধ্যাপক ৩০ জন, সহযোগী অধ্যাপক ৭৭, সহকারী অধ্যাপক ৯৬ জন, প্রভাষক ৪০ জন এবং পিএইচডি ডিগ্রীধারী ৬০ জন। এছাড়া ২৪৯ জন কর্মকর্তা ও ৩৬৬ জন কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্তিযােদ্ধা আব্দুল মান্নান হল, আলেমা খাতুন ভাসানী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল, শেখ রাসেল হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নামে ৭ টি হল রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ ১৪২৯ জন, বিএসসি (অনার্স) এ ২৬৩৪ জন, বিবিএ তে ২৭৯ জন, বিএসএস (অনার্স) এ ১৮৩ জন, বি ফার্ম এ ২৭ জন, এমএস/এমএসসি তে ১২৯৬ জন, এমএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং)/এম ইঞ্জিনিয়ারিং এ ২০৫ জন, এমএসএস এ ২৮ জন, এমবিএ তে ১০৮ জন, পিজিডি-ইন-আইসিটিতে ২৮৭ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ২০ হাজারটি বই, ৯৪১ টি জার্নাল এবং সাময়িকী ও প্রায় ৩০ হাজারটি ই-বুক রয়েছে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাথে চীনের স্বনামধন্য ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্নারক রয়েছে।
বর্তমান বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ও বাংলাদেশের ‘রূপকল্প’ এবং ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ২০৪১’ বাস্তবায়নের স্বপ্ন নিয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩শ ৪৫ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রায় সমাপ্তির পথে।বিশ্ববিদ্যালয়টি ২২ বছরে পদার্পণ করলেও ২০০৮ সাল পর্যন্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকারের সময়ে এসে এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়ে বর্তমানে এর উন্নয়ন চিত্র চোখে পড়ার মতো হয়েছে। বর্ণিত প্রকল্পে ভৌত অবকাঠামোগত সকল কম্পোনেন্টের ই-জিপি তে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে ও কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অনুমোদিত প্রকল্পটির আওতায় বাস্তবায়নাধীন ১২.৭৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, ১২-তলা বিশিষ্ট একাডেমিক-কাম-রিসার্চ ভবন নির্মাণ, ১০-তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক অ্যানেক্স উত্তর ভবন নির্মাণ, ২৫০ ছাত্রের জন্য নির্মাণাধীন জননেতা আব্দুল মান্নান হলের অবশিষ্ঠ ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ, ৭০০ ছাত্রীর জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ”শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল” নির্মাণ, ৫৫০ ছাত্রের জন্য ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত ”শেখ রাসেল হল” নির্মাণ, ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ, সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ১০ তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন নির্মাণ। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন, মাটি ভরাটসহ অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কালভার্ট নির্মাণ, আরসিসি ড্রেইন এবং ঢাকনাযুক্ত ডাষ্টবিন নির্মাণ, নতুন স্থাপনাসমূহে গ্যাস লাইন সংযোগ, প্রস্তাবিত ভবনসমূহের জন্য আসবাবপত্র ক্রয়, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি/ল্যাব যন্ত্রপাতি, মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়, অফিস যন্ত্রপাতি ক্রয়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য বই ও সাময়িকি ক্রয়, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ২ টি বাস, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ১টি মিনিবাস ও ১টি মাইক্রোবাস ক্রয় কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন কাজ বর্তমানে সমাপ্তির পথে। আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত হলে শিক্ষা, প্রশাসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা নতুন ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে যা দক্ষ মানব সম্পদ গঠনে সহায়ক হবে।
ইতোপূর্বে ”মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন”-শীর্ষক প্রকল্প (জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৭ মেয়াদে) ৫১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা (সংশোধিত ৫৬ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা) ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পটি গত (৩০ জুন) ২০১৭ সমাপ্ত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ছিল: ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বাসভবন নির্মাণ, জননেতা আব্দুল মান্নান হল নির্মাণ, আলেমা খাতুন ভাসানী হল নির্মাণ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরী নির্মাণ (২০ ইউনিট), নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গ্যাস লাইন, জেনারেটর যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ক্রয়, ১টি মাইক্রোবাস ও ১টি এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় ইত্যাদি। এছাড়াও “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন”-শীর্ষক গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই ২০০৮ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত মেয়াদে মোট ৩৭ কোটি ০৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের আওতায় ৫-তলা লাইব্রেরী কাম ক্যাফেটেরিয়া ভবন নির্মাণ, ৪০০ আসনের ছাত্র হল বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হল নির্মাণ, ৫-তলা ৩০ ইউনিটের শিক্ষক কর্মকর্তা ডরমিটরী নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ৪-তলা ভিতে ২-তলা একাডেমিক ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিস্তম্ভ ও এর চত্ত্বর নির্মাণ, মুক্তমঞ্চের উন্নয়ন, বিজয় অঙ্গন চত্ত্বর নির্মাণ, ঢাকাস্ত গেস্ট হাউজ ক্রয় (শ্যামলীতে দু’টি ফ্লাট), লাইব্রেরীতে ”মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার” স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় ৪০০ পুস্তক ক্রয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত ”প্রত্যয় ৭১” এর সম্প্রসারণ ও সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আইপি ক্যামেরা-এর আওতায় আনয়ন। একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে লাইব্রেরী অটোমেশন, ই-বুক, ই-জার্নাল, আইসিটি সেল স্থাপন, ইনিস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) স্থাপন, রিসার্স সেল-এর মাধ্যমে শিক্ষকগণের গবেষণা পরিচালনা, বিডিরেন কতৃক ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেনসমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ) বাস্তবায়ন।
বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে বলে বর্ণিত আছে। মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে এ ক্যাম্পাসে ৪৯.১৫ একর জমির মধ্যে ১২.৯০ একর জমিতে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নামে একাধিক সরকারী (দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদি), স্বায়ত্ব শাসিত বা সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত (শিশু হােস্টেল, মাদ্রাসা, ভাসানী হুজুর এর দরবার হল, মুসাফির খানা, মাজার, মসজিদ ইত্যাদি), বেসরকারীভাবে পরিচালিত (ভােকেশনাল হাইস্কুল, সাধারণ হাই স্কুল, টেকনিক্যাল কলেজ, এদের আবাসিক ছাত্র/ছাত্রী হল), মন্দির, পুরাতন ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে এবং অত্র ক্যাম্পাসে ১৫.৪০ একর জমিতে ১টি দিঘীসহ বড় বড় ৪টি পুকুর রয়েছে। অবশিষ্ট মাত্র ২০.৮৫ একর জমিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে পার্শ্বস্ত এলাকার জনসাধারণ অবাধে চলাচল করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমুলক প্রকল্প নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে যার মধ্যে-কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন, ছাত্র হল, ছাত্রী হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, অডিটোরিয়াম, স্টেডিয়াম, জিম্নেসিয়াম, ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন, শিক্ষক ক্লাব, কর্মকর্তা ক্লাব নির্মাণ ইত্যাদি থাকবে। তাছাড়া ক্যাম্পাস চত্বরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানান্তর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
করোনাকালীন পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমস্যা সেশনজট। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী সম্পন্ন করতে লাগছে ৫ থেকে ৬ বছর এবং স্নাতকোত্তরে লাগছে ১.৫ থেকে ২ বছর। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ৭ থেকে ৮ বছর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক শীল টিনিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বেশিই ভালবাসে এ কারণে ছাড়তে চায় না, আমাদেরও যেতে ইচ্ছা করে না। অভিমান-ক্ষোভ যতই থাক, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ছাপিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সেরা তালিকায় উঠে আসুক সেই প্রত্যাশা রাখি, এগিয়ে যাক সামনের দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরে আলম মাসুম টিনিউজকে বলেন, প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা মনে পরলেই নস্টালজিয়ায় ভুগি। সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলাম বলে ক্যাম্পাসে ঘটনাবহুল সময় পার করেছি আমি। যৌবন এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কাটিয়েছি সন্তোষের প্রতিটি অলি গলিতে। মাভাবিপ্রবি আমার পরিচয়, আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমগ্র বিশ্বে গবেষণা ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য নাম হয়ে উঠুক মাভাবিপ্রবি। ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই আমার প্রত্যাশা।
২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ আলী টিনিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ সকল কর্মসূচি পালন করা হবে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, ১০ টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যূরালে ও মাওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১০ টা ২০ মিনিটে পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা, কেককাটা এবং বাদ যোহর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ