মধুপুর বনের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে সুফল প্রকল্পের ফলজ বাগান

221

হাবিবুর রহমান, মধুপুর ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের হারানো ঐতিহ্য ফিরাতে শালবনের সাথে মানানসই দেশী প্রজাতির বৃক্ষ রোপন কার্যক্রম শুরু করেছে বন বিভাগ। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন্য প্রাণীর খাদ্যের সংস্থান, নিরাপদ আবাস্থল টেকসই বনের জন্য বেত ও ভেষজ বৃক্ষের সমন্বয়ে বাগান করা হচ্ছে। টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের এ বনায়ন কার্যক্রমে মধুপুর শালবনের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুরের দোখলা রেঞ্জের অরণখোলা মৌজায় সুফল প্রকল্পের মাধ্যমে ১শ হেক্টর দেশী নানা প্রজাতির ফলজ ও ৫০ হেক্টর বেত বাগান করা হয়েছে। জবর দখল রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীদের খাদ্যের সংস্থান, নিরাপদ আবাস্থল বনের মধ্যে বেড়া হিসেবে বেত রোপন ও ভেষজ গাছের সমন্বয়ে এ বাগান করা হয়েছে। বনের ঐতিহ্য ফিরাতে ও পশু খাদ্যের জন্য দেশী প্রজাতির লটকন, ঢেউয়া, জলপাই, গোলাপ জাম, তিতি জাম, ঢাকি জাম, কালো জাম, আমলকি, কাঠবাদাম, তেঁতুল, চাপালিশ, বহেড়া, পেয়ারা, গাদিলা, নেওউর, গাব, আতাফল, জামরুল ও চালতাসহ নানা প্রজাতির ফলজের ১শ হেক্টর বাগান করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে সৃজিত বাগানে ফুলফল আসতে শুরু হয়েছে। ফুলও ফলে বাগান সমৃদ্ধ হলে বন্য প্রাণীদের খাদ্যের সংস্থান হবে। জীবীবৈচিত্র্য সংরক্ষণ হবে। বন রক্ষার পাশাপাশি জবরদখল রোধ হয়ে ফিরে আসবে মধুপুর শালবনের হারানো ঐতিহ্য। এসব তথ্য বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জ সুত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি সুফল প্রকল্পের এ বাগান দেখতে টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি, টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জহিরুল হক, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমীন বাগান পরিদর্শন করেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
দোখলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ টিনিউজকে জানান, সুফল প্রকল্পের মাধ্যমে দোখলা রেঞ্জে ১শ হেক্টর ফলজও ৫০ হেক্টর বেত বাগান সৃজন করা হয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পশুখাদ্য ও নিরাপদ আবাসস্থলের জন্য দেশী প্রজাতির বহেড়া, আমলকি, কাঠবাদাম, জাম চালতাসহ আরো ২৫-৩০ প্রজাতির ফলজ বাগান করা হয়েছে। শাল বনের জীবন্ত বেড়া হিসেবে বেত বাগান করা হয়েছে। বাগানে ফুলফল ধরা শুরু হয়েছে। এ বাগান সমৃদ্ধ হলে মধুপুর বন তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে তার ধারনা।

 

ব্রেকিং নিউজঃ