মধুপুর পৌরসভায় সেই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আবারও মুখোমুখি

167

pageএস.এম শহীদ, মধুপুরঃ
দুইজনই এক দলের। একজন দলীয়, অপরজন বিদ্রোহী। ১৯৯৯ সালে প্রথম টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভা নির্বাচনের কথা। সরকার শহীদ ছিলেন আওয়ামী লীগের এবং মাসুদ পারভেজ ছিলেন একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। পরাজিত হয়েছিলেন মাসুদ পারভেজ। ঘটনাক্রমে একই নির্বাচনে (চর্তুর্থ বারের মতো পৌর নির্বাচন) এবার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র সরকার শহিদের সাথে নির্বাচনী মাঠে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে এমন খবরে দলের এবং ভোটারদের সুদৃষ্টি নিজের দিকে নেয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীগণ পার করছিলেন খুব কঠিন সময়। এমন কঠিন সময়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার আসন্ন চতুর্থ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জটিলতা নিয়ে নানা গুঞ্জন এলাকায় বেশ আগে থেকেই ছিল। কিন্তু বিএনপি’র প্রার্থী একক হওয়ার সম্ভবনা নিশ্চিত বলে দলে তেমন কথা নেই এ নিয়ে। বিএনপি-আওয়ামী লীগের বাইরে এ পৌরসভায় অন্য কোন পরিচিত দলের প্রার্থী দেয়ার সক্ষমতা আপাতত না থাকলেও মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন চড়মোনাই পীরের অনুসারী হারুন-অর-রশিদ। তিনি  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দল থেকে পাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। পীরের নির্দেশ পেয়ে তিনি স্থানীয় মুরিদানরা তাকে প্রার্থী হিসেবে এলাকায় এলাকায় পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। ২০ বছর বয়সী এই পৌরসভায় মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাসুদ পারভেজকে দেয়া হয়েছে নৌকার প্রতীকে নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন।
১৯৯৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত ২৫.৬২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় মোট ভোটার ৩২ হাজার ৯৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৪৩০ এবং  নারী ভোটার ১৬ হাজার ৫৪৪।
বিগত ৯৯ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সরকার শহিদের (বর্তমান উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক) কাছে পরাজিত হয়ে নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি মাসুদ পারভেজ। গত ২০০৫ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনে মাঠ গুছিয়েও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলের প্রার্থী বিএনপি থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করা খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টুর পক্ষে কাজ করেছেন। এরপর ২০১০ সালের তৃতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র কিনে জমা দেননি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবু দলীয় প্রার্থী হওয়ায়। দু’বারই (দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্বাচন) আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট দুই দলীয় প্রার্থী বিএনপি’র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।
অন্যদিকে প্রথম পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত সরকার শহিদুল ইসলাম শহিদ বিএনপিতে যোগদান করে দলের প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে এখনও দায়িত্বে আছেন। দুই দলের প্রার্থী হয়ে তিন মেয়াদে পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও মধুপুরে চোখে পড়ার মত তেমন কোন উন্নয়ন তিনি ঘটাতে পারেননি। যুগপৎ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা এ নেতা তবুও দলের প্রার্থী এটা নিশ্চিত। দলের ২/১ জনের আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ও দলে প্রভাবশালী সরকার শহিদই বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রার্থী।

ব্রেকিং নিউজঃ