মধুপুর পৌরসভায় বাই-সাইকেলে মহর আলী’র অভিনব প্রচারণা

143

1মধুপুর সংবাদদাতাঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর পূর্বসভায় (পৌরসভা) কোন উন্নয়ন অয় নাই, আমরা আন্ধারে আছি, আন্ধার দূর করতে মাসুদ পারভেজ ভাইকে নৌকায় ভোট দেইন যানি। একটানে কথাগুলো বললেন, মধুপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বোয়ালী (দক্ষিণ) গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে মহর আলী (৪৫)। মহর আলীর সাথে কথা হয় বোয়ালী গ্রামে।
পৌরসভা হবে সুন্দর, ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন। এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সব অন্ধকার দূর করে জনগণকে আলোর পথে নিতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ‘পৌরসভা’ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পৌরসভার অভিভাবক মেয়র হবেন দক্ষ, সৎ, জনদরদী। সব সময় জনগণের পাশে থাকবেন রাজনীতি সচেতন ওই জনপ্রতিনিধি। এ প্রত্যাশায় গত তিন পৌর নির্বাচনে কখনও আওয়ামী লীগের আবার কখনও বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে পরপর একই ব্যক্তিকে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। কিন্তু মধুপুর পৌরসভার গত ২০ বছরে পৌরবাসী পৌর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। উন্নয়ন হয়নি কোন। এমন কথাই বললেন, মোটর শ্রমিক মহর আলীর কাছ থেকে। তিনি এবার আর সেই মোহে পড়ে ভুল করতে রাজী নন বলেও মত দিলেন। পরিবর্তন না হলে উন্নয়ন হবে না- এমনটা ভেবেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভোট এবার নৌকায় দিবেন। শুধু নিজের ভোট নয় অন্যকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবানে জোরেসোরে মাঠেও নেমেছেন। সকাল থেকে তিনি গভীর রাত অবধি সারাক্ষণ বিশেষভাবে সাজানো নিজের বাই সাইকেলে নৌকার অভিনব প্রচার করে যাচ্ছেন। মধুপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বোয়ালী (দক্ষিণ) গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে মহর আলী (৪৫) নৌকার এ অভিনব প্রচারক।
স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন মোটর শ্রমিক মহর আলীর পকেটে টাচ্ মোবাইল সেট। কম দামের অথচ অসাধারণ তার বাই-সাইকেল। অটো মেশিন লাগানো। সামনে পিছনে দুটি করে মোট চারটি সিগনাল বাতি। পথচারিকে সাবধান করতে আছে হর্ণ। আছে রাতের অন্ধকারে চলার বাতিও। সেট করা অডিও সার্ভিস। লাগানো আছে একাধিক স্পিকার। মেমোরি কার্ডে নির্বাচনী গান লোড করা। বিশেষ সুইচ তৈরি করা তাতে। টিপ দিলেই বেজে উঠে নৌকায় ভোট আহবান ও প্রার্থীর গুণগানের নানা শিল্পীর রিমিক্স সংগীত। টিপ দিলেই পলকে থেমে যায় গান। এমন আয়োজনে মহর এখন দৃষ্টি নন্দন বাই-সাইকেল চালক ও জীবন্ত নির্বাচনী পোস্টার। ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আবার রাতে বাসায় ফেরা পর্যন্ত মহর আলীর নৌকা মার্কার প্রচার চলছেই।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত মধুপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে (১৯৯৯) আ’লীগের সমর্থনে প্রার্র্থী হয়ে নির্বাচিত হন সরকার শহীদ। পরে দল পরিবর্তন করে বিএনপি’র সমর্থনে প্রার্থী হয়ে তিনি ২০০৪ সালে দ্বিতীয়বার মেয়র হন। ২০১০ সালের তৃতীয় নির্বাচনে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী হয়েও তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। চতুর্থবারের মতো প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ