মধুপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও সতীন আটক

221

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের লোকদেও গ্রামে মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকালে স্ত্রী শেফালী বেগমকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী, সতীন ও সন্তানসহ বেশকয়েকজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। নিহত শেফালী বেগম (৪৫) ওই গ্রামের গোলাপ হোসেনের স্ত্রী।

 

মধুপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হাসান ও স্থানীয়রা টিনিউজকে জানায়, গোলাবাড়ী ইউনিয়নের লোকদেও গ্রামের গোলাপ হোসেন বিভিন্ন এলাকায় ১০-১২টি বিয়ে করেছেন। বর্তমানে প্রথম স্ত্রী হাসনা বেগম (৪৮) ও পঞ্চম স্ত্রী শেফালী বেগম (৪৫) রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে গোলাপ হোসেন পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রথম স্ত্রী হাসনা বেগমকে তালাক দেন। পরে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে সালিশী বৈঠকে প্রথম স্ত্রীর সকল পাওনা পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী হাসনা বেগমের একটি ঘর পাঁচ হাজার টাকা দাম সাব্যস্ত করে পঞ্চম স্ত্রী শেফালী বেগম কিনে রাখতে চান। এতে প্রথম স্ত্রী হাসনা বেগম রাজি না হওয়ায় সোমবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় দুই সতীনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে বড় সতীন হাসনা বেগমকে অপর সতীন শেফালী বেগম দেখে নেওয়ার হুমকী দেন। পরে হাসনা বেগম ও তার ছেলে হাসান (২৫) বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়ে প্রতিবেশির বাড়িতে রাত যাপন করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকালে হাসনা বেগমের ছেলে হাসান তার বাবা গোলাপ হোসেনকে বাড়িতে ডাকতে গেলে শেফালী বেগমের ক্ষতবিক্ষত লাশের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

গোলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাবলু টিনিউজকে জানান, গোলাপ হোসেন ১০-১২টি বিয়ে করেছেন। এলাকায় বিয়ে পাগল বলে গোলাপ হোসেনের পরিচিতি রয়েছে। তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। বর্তমানে শেফালীর লাশ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

এ বিষয়ে মধুপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হাসান টিনিউজকে আরও জানান, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত মরদেহটি উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর পক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় স্বামী ও সতীনসহ বেশকয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ