মধুপুরে দেড় বছর পর নার্গিস হত্যার রহস্য উম্মোচন ॥ সাবেক স্বামী কারাগারে

95

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুরে নার্গিসকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে প্রাক্তন স্বামী মনিরুজ্জামান। পরে তার লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে মনিরুজ্জামান পালিয়ে যান। ঘটনার দেড় বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে রোববার (১৪ মার্চ) আদালতে জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান একথা স্বীকার করেছেন। সোমবার (১৫ মার্চ) পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার নেকিপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের মেয়ে নার্গিস বিগত ২০১৯ সালের (১১ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ হন। দুই দিন পর তাদের বাড়ির উত্তর পাশে একটি ধান ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো তার লাশ করা হয়। পরদিন (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বাবা বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে। পরে এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। পিবিআই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ঘটনার সাথে নার্গিসের প্রাক্তন স্বামী মনিরুজ্জামান জড়িত থাকার বিষয়টি চিহ্নিত করে। গত শনিবার (১৩ মার্চ) মনিরুজ্জামানকে তার বাড়ি ধনবাড়ী উপজেলার কান্দিপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মনিরুজ্জামান নার্গিসকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতে জবানবন্দি দিতেও রাজি হন। রোববার (১৪ মার্চ) টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন টিনিউজকে জানান, জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন তার সাথে নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে পরে তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। ফলে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। মনিরুজ্জামান পর আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার পরে নার্গিসের সাথে আবার যোগাযোগ হয়। নার্গিস তাকে জানায় আগের স্ত্রীকে তালাক দিলে পুণরায় বিয়ে করবে। নার্গিসের কথা মতো মনিরুজ্জামান দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন। ঘটনার দিন মনিরুজ্জামান নার্গিসদের বাড়িতে যান। সেখানে তাকে একা পেয়ে এক দফা ধর্ষণ করেন। পরে দ্বিতীয় বার ধর্ষণের চেষ্টা করলে নার্গিস বাধা দেন। তখন নার্গিসের গলা চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা শুরু করেন। এক পর্যায়ে নার্গিস মারা যান। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নার্গিসের গলায় ওড়না শক্ত করে পেঁচিয়ে লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান মনিরুজ্জামান। ঘটনার পর মনিরুজ্জামান এলাকা ছেড়ে চলে যান চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপন অবস্থায় আবার বিয়ে করেন।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম মনিরুজ্জামানের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ