মধুপুরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আবারও মুখোমুখি ॥ ধনবাড়ীতে কঠিন লড়াই এর প্রস্তুতি

119

dhon_bari_modhupurএস এম শহীদ, মধুপুর/আব্দুল্লাহ আবু এহসান, ধনবাড়ীঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী এ দুই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা চুড়ান্ত হওয়ায় এবং প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকেই নির্বাচনী আমেজ পড়েছে এলাকায়।
দুইজনই এক দলের। একজন দলীয়, অপরজন বিদ্রোহী। বিগত ১৯৯৯ সালে প্রথম টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভা নির্বাচনের কথা। সরকার শহীদ ছিলেন আওয়ামী লীগের এবং মাসুদ পারভেজ ছিলেন একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। পরাজিত হয়েছিলেন মাসুদ পারভেজ। ঘটনাক্রমে একই নির্বাচনে (চতুর্থ বারের মতো পৌর নির্বাচন) এবার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র সরকার শহীদের সাথে নির্বাচনী মাঠে মুখোমুখি হচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে এমন খবরে দলের এবং ভোটারদের সুদৃষ্টি নিজের দিকে নেয়া নিয়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এমন কঠিন সময়ে মধুপুর পৌরসভায় আসন্ন চতুর্থ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল এবং বিএনপি’র প্রার্থী নিশ্চিত হয়ে গেছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগের বাইরে পৌরসভায় অন্য কোন পরিচিত দলের প্রার্থী না থাকলেও মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন চড়মোনাই পীরের অনুসারী হারুন-অর-রশিদ। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দল থেকে পাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। ২০ বছর বয়সী এই পৌরসভায় মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাসুদ পারভেজকে দেয়া হয়েছে নৌকার প্রতীকে নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন।
বিগত ৯৯ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সরকার শহীদের (বর্তমান উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক) কাছে পরাজিত হয়ে নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি মাসুদ পারভেজ। গত ২০০৫ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনে মাঠ গুছিয়েও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলের প্রার্থী বিএনপি থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করা খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টুর পক্ষে কাজ করেছেন। এরপর ২০১০ সালের তৃতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র কিনে জমা দেননি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবু দলীয় প্রার্থী হওয়ায়। দু’বারই (দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্বাচন) আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট দুই দলীয় প্রার্থী বিএনপি’র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।
অন্যদিকে প্রথম পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত সরকার শহিদুল ইসলাম শহীদ বিএনপিতে যোগদান করে দলের প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে দায়িত্বে আছেন। দুই দলের প্রার্থী হয়ে তিন মেয়াদে পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও মধুপুরে চোখে পড়ার মত তেমন কোন উন্নয়ন তিনি ঘটাতে পারেননি। যুগপৎ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা এ নেতা তবুও দলের প্রার্থী এটা নিশ্চিত। দলের ২/১ জনের আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ও দলে প্রভাবশালী সরকার শহীদই বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রার্থী।
১৯৯৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত ২৫.৬২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় মোট ভোটার ৩২ হাজার ৯৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৪৩০ এবং  নারী ভোটার ১৬ হাজার ৫৪৪।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর স্মৃতি ধন্য টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভায় নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি (এ) তাদের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকের নির্বাচনকে ঘিরে ধনবাড়ী পৌরসভায় চলছে  নানা জল্পনা কল্পনা। দলের মধ্যে চলছে নানা হিসেব নিকেশ। বিশেষ করে সরকার দলীয় নেতা কর্মিদের মধ্যে এ নির্বাচনকে গিরে আলাপ আলোচনা এখন তুঙ্গে। নেতাকর্মিদের এসব আলোচনার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মুখেও প্রার্থীদের অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে ঝড়ো আলাপ।
ধাপে-ধাপে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম তপন। অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ধনবাড়ী পৌরসভায়  এবারের নির্বাচনে নৌকার মাঝি খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন। জয়ের আশায় তিনি দলের হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জোর প্রস্তুতি নিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল কাশেম দলীয় নেতা-কর্মিদের সাথে বৈঠক করে উপজেলা জাতীয় পার্টির অন্যতম সদস্য অধ্যক্ষ ফেরদুস আহম্মেদ পিন্টুকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি মনোনয়নের পেয়েই লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।
অপরদিকে উপজেলা পৌর বিএনপির আহবায়ক এস.এম.এ সোবাহান দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপি’র মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকার এক পর্যায়ে গত বছর ১৭ ডিসেম্বর এ উপজেলায় আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ফকির মাহবুব আনাম স্বপন একক প্রচেষ্টায় আস্থাভাজনদের নিয়ে ওই কমিটি গঠন করেন। কমিটি ঘোষণার ওই সময় বঞ্চিতরা বিপরীতে অবস্থান নেয়ায় এখানে দলের অবস্থান জটিল হয়েছে। এতে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। নির্বাচনে এসব ঘটনার প্রভাব পড়বে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মিদের ধারনা। এস.এম.এ সোবাহান দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তার পক্ষের নেতাকর্মি নিয়ে ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি যাওয়া শুরু করেছেন।
তবে ভোটাররাও যোগ্য প্রার্থী বেছে নেয়ার জন্য ভোটের মাঠের দিকে বিশেষ নজর রেখেছেন। তারা বলেছেন, ভোটের মাধ্যমে তারা উপযুক্ত ও সৎ প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবেন। দুই দশক বয়সী ২৪.৮৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় ২২ হাজার ৭৬৯ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পৌর পিতা নির্বাচিত করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ