মধুপুরে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন সংখ্যালঘু ভোটাররা

130

pageআব্দুল্লাহ আবু এহসান, মধুপুরঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভা নির্বাচনে এখন চলছে শেষ মুহুর্তের প্রচারণা। ঘুম ও শীতকে উপেক্ষা করে প্রার্থী ও সমর্থকরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ী বাড়ী। প্রার্থনা করছেন ভোট। চাইছেন দোয়া। রানী ভবানীর স্মৃতি বিজড়িত দ্বিতীয় শ্রেণির এ পৌরসভায় নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে এ পৌরসভায় জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন হিন্দু (সংখ্যালঘু) ভোটাররা। সরেজমিনে এ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
পরিদর্শনকালে কথা হয়- হোটেল শ্রমিক বাদশা মিয়া, আল-আমিন ও সংবাদকর্মী মোজ্জামেল হকের সাথে। তারা জানান, এ পৌরসভায় বর্তমানে নৌকা-ধানের শীষ প্রায় সমান সমান। তবে হিন্দুরা যে দিকে ভোট দিবেন জয়ের পাল্লা সে দিকেই ভারী হবে। কৃষক মোতালেব, শ্রমিক আব্দুল খালেক, ব্যবসায়ী আমবাজ আলীও জানালেন- একই ধরনের কথা। শিক্ষক তোজাম্মেল হক জানান, এ পৌরসভায় এবার ৩ জন প্রার্থী প্রতিদন্ধিতা করলেও মূল লড়াইটা হবে মূলত নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। জানা যায়,  ৩৭ হাজারের অধিক ভোটারের এ পৌরসভায় সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে প্রায় ২৫ ভাগ।
এ পৌরসভায় এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুদ পারভেজ (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী সরকার শহীদুল ইসলাম (ধানের শীষ) এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন (চরমুনাই পীরের) মনোনীত হারুন অর-রশিদ হাত পাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। চর্তুথ বারেরমতো মেয়র পদে লড়ছেন সরকার শহীদ। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার তখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তখন শহীদ ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতাপশালী নেতা। সে সুবাদেই দলীয় সমর্থন পান সরকার শহীদ।
অপরদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা মাসুদ পারভেজ দলীয় সমর্থন না পেয়ে তখন বিদ্রোহী প্রার্থী হন। হেরে যান মাসুদ পারভেজ। জয়ের মালা পড়েন সরকার শহীদ। এরপর মধুপুর উপজেলায় আওয়ামী রাজনীতিতে ঘটে ওলটপালট নেতৃত্বে আসেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। এ আগমনে কোণঠাসা হয়ে পড়েন সরকার শহীদ। ২০০২ সালে যোগ দেন বিএনপিতে। এর মধ্যে বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর মন্টু জার্সি পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগে আসেন। ২০০৫ সালের পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন তিনি। আর বিপরীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী সরকার শহীদ। দু’জনই দলত্যাগী। এজন্য নির্বাচন ছিল ব্যক্তি ইমেজ নির্ভর। ওই নির্বাচনে সরকার শহীদ বিপুল ভোটে আব্দুল গফুর মন্টুকে ধরাশায়ী করেন। এরপর ২০০৮ সালে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী হন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবু। আর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সেই সরকার শহীদ। ওই নির্বাচনেও সরকার শহীদ বিপুল ভোটে জিতে হেট্রিক করেন। কিন্তু মধুপুর পৌরসভা নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েও আওয়ামী লীগ বারবার হেরে যাচ্ছেন। পৌর এলাকায় হিন্দু ও খৃস্টান সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার রয়েছে। এরপরও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এখানে বারবার হেরে যায়। ব্যক্তি ইমেজে সরকার শহীদ বার বার বিজয়ী হয়। রাজনৈতিক বোদ্ধারা জানান, এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আওয়ামী লীগ একাট্রা হয়ে মাঠে-ময়দানে কাজ করছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুদ পারভেজের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাব না কিছুটা উজ্জল। এদিকে সরকার শহীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব আনাম স্বপন। মাসুদ পারভেজের পক্ষে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ১৯৯৯ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য রাতদিন খাটছেন মাসুদ পারভেজ। আর টানা চতুর্থ বার জিতে নিজের অপরিসীম যোগ্যতার পরিচয় দিতে মাঠে রয়েছেন সরকার শহীদ। শেষ লড়াই দেখার অপেক্ষায় পৌরবাসিরা।
এ পৌরসভায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আরেক প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ হাত পাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও মূলত লড়াই হবে নৌকা এবং ধানের শীষের মধ্যে। তবে নৌকা এবং ধানের শীষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কে হারে কে জিতে বলা মুশকিল।

ব্রেকিং নিউজঃ