মধুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় আরও দুই আসামীকে গ্রেফতার

109

হাসান সিকদার ॥
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ আগস্ট) ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সোহাগপল্লী এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার দুপুর ১২টায় তার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আউয়াল (৩০), একই উপজেলার শিলাবহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাহেজের ছেলে নুরনবী (২৬)। গ্রেফতারকৃতদের সবাই মাদকাসক্ত।

ঘটনার পরপরই বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে গ্রেফতার হওয়া রাজা মিয়ার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এরপর থেকেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে বাস ডাকাত চক্রের সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এর আগে তারা আরও কোন ডাকাতি কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছে কিনা, তাদের দলের সদস্য সংখ্যা কত, তারা আর কি ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামী নুরনবীর কাছ থেকে ডাকাতির সময় লুট করা একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও লুট করা মালামাল উদ্ধারের জন্যে অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃত রাজা মিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে আউয়ালকে গ্রেফতার করা হয়। এবং আওয়ালের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় নুরনবীকে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

 

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নারায়নগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি খাবার হোটেলে যাত্রা বিরতি করে। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন দফায় যাত্রীবেশি ১০/১২জন ডাকাত ওই বাসে ওঠে। বাসটি টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা যাত্রীদের হাত, পা, চোখ বেঁধে তাদের সব লুট করে নেয়। এ সময় বাসে থাকা এক নারী যাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। ডাকাতরা বাসটি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের দিকে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসটি মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে রাস্তার খাদে নামিয়ে দেয় তারা। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে পুলিশ আসলে যাত্রীরা ডাকাতি ও নির্যাতনের বিষয়টি জানান।

এ ঘটনায় ওই বাসের যাত্রী হেকমত মিয়া বাদী হয়ে মধুপুর থানায় ১০/১২ জন অজ্ঞাত আসামী করে বাস ডাকাতি ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ