মধুপুরে কয়লার পরিবর্তে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে জ্বালানি কাঠ

77

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ধ্বংস হচ্ছে মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী বনের কাঠ। কয়লার পরিবর্তে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টাঙ্গাইলের মধুপুরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটেরভাটা। ফসলি জমির মাটি কেটে দশ চাকার ট্রাকে ইটভাটায় আনা-নেওয়ার ফলে নষ্ট হচ্ছে পাকা রাস্তা-ঘাট।
উপজেলার মির্জাবাড়ি ইউনিয়নের হিরণবাজার এলাকার ফাইভ স্টার ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পরিমানের জ্বালানি কাঠ স্তুপ করে রাখা হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে ভাটার ম্যানেজার টিনিউজকে বলেন, কয়লার মুল্য বৃদ্ধির কারণে এ বছর কাঠ দিয়েই ইট পোড়ানো হবে এর কোন বিকল্প নেই।
ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী কৃষি জমিতে ইটের ভাটা স্থাপন করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করে স্থাপন করা হয়েছে উপজেলার প্রায় সবগুলো ইটেরভাঁটা। এছাড়া জনবসতি হতে ভাটার দুরত্ব হতে হবে কমপক্ষে ১ কিলোমিটার অথচ মধুপুর উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে ও জনবসতি এলাকাতেই গড়ে উঠেছে একের পর এক অসংখ্য ইটের ভাটা।
সরকার কর্তৃক ফসলি জমিতে মাটি কাটা নিষিদ্ধ হলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে মাটি কাটার মহাৎসব এবং সেই মাটি ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন ইটের ভাটায়। প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। এর ফলে ভবিষ্যতে ধান উৎপাদনে ব্যাপক সংকটের আশংকা করছেন সংসৃষ্টরা। ইট তৈরীর ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে। প্রতিটি ইটের দৈর্ঘ্য-১০ ইঞ্চি, প্রস্থ্য-৫ ইঞ্চি এবং উচ্চতা-৩ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও প্রায় সবগুলো ভাটায় ইটের মাপ ৮/৪/ও ২ দশমিক ৭০ ইঞ্চির উপরে পাওয়া যায়নি। যায় ফলে ব্যাপকভাবে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা। এছাড়াও ইটের সঠিক মাপ না থাকার কারণে বাসাবাড়ি নির্মান কিংবা রাস্তার কাজে ইটের হিসাব মেলাতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে প্রকৌশলীও ঠিকাদারদের।
এলাকার কৃষকদের অভিযোগ ইটভাটা স্থাপনের পর থেকেই আশপাশের এলাকায় ধানের ফলন দিনদিন কমে যাচ্ছে এবং গাছের নারিকেল বড় না হতেই ভিতরের পানি শুকিয়ে পড়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন পদক্ষেপ না থাকার কারণেই ভাটার মালিকরা অবাধে অবৈধ ইটের ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবেশ দূষণ মুক্ত ও আবাদি ফসল রক্ষার্থে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন অত্র এলাকার ভুক্তভোগী জনসাধারণ।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ