মধুপুরে আনারস পাতা ও কলাগাছ থেকে শিল্পজাত পণ্য তৈরির নতুন দিগন্ত

827

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারস পাতা ও কলাগাছ প্রযুক্তিগত ব্যবহারের মাধ্যমে এখন সম্পদে পরিণত হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নতুন পণ্যের উদ্ভাবন ও বিকাশ ঘটিয়ে দারিদ্র বিমোচন করা হচ্ছে।




জানা যায়, ‘বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিস’ সম্প্রতি ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ও ‘শিল্প মন্ত্রনালয়’ এর আর্থিক সহায়তায় ‘বাংলাদেশ ইন্সস্পায়ার্ড’ নামক প্রকল্প তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকাকে ফোকাস পয়েন্ট হিসাবে বাছাই করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো- আনারসের পাতার আঁশ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাহারি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে নারীদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়ন।




মধুপুর উপজেলার জলছত্র প্রকল্প কার্যালয়ের উৎপাদন কেন্দ্রের আওতায় ব্যুরো বাংলাদেশকে পার্টনার মর্যাদা দিয়ে পাঁচ শতাধিক বিত্তহীন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করা হয়েছে। এসব নারীরা বাহারি হাত ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ, গহনার বাক্স, ওয়াল ম্যাট, টিস্যু বক্স, কলমদানী, হ্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় অলংকার তৈরি করছে। আনারস বর্জ্যের প্রাকৃতিক আঁশ ও সূতা থেকে পরিবেশ সম্মত পোষাক ও হস্তশিল্প উৎপাদনের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের প্রাকৃতিক আঁশ থেকে হস্তজাত শিল্প পণ্য উৎপাদনের নজির রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সুত্র জানান, আনারসের পাশাপাশি কলা গাছের বাকল ও প্রকল্পের কাঁচাপণ্য হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ মধুপুর গড়ে আনারসের পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার একরে কলার বাণিজ্যিক আবাদ হয়।




আনারস ও কলার বর্জ্য থেকে সুতা ও কাপড় তৈরির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি সম্ভব। আঁশ উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে করা গেলে বিদেশ থেকে সূতা আমদানী হ্রাস পাবে। গামের্ন্টস খাতে নতুন পোষাক তৈরিতে অনুসঙ্গ হিসাবে কাজ করবে। এমনকি এসব বর্জ্য থেকে জৈবিক সার তৈরি করে রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস করা যাবে।




প্রকল্পের মধুপুর ইউনিট ম্যানেজার এস. এম আজাদ রহমান টিনিউজকে জানান, এটি শীঘ্রই সফল প্রকল্প হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। মধুপুর ছাড়াও নরসিংদী ও গাইবান্ধায় প্রায় দুই হাজার নারীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু হস্তশিল্প সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও বিপনন সহজতর হলে পিছিয়ে পড়া নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে। মধুপুর এলাকার নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার জলছত্র এলাকায় পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন আয়োজন করা হয়। হাজারো দশর্কের সমাগম ঘটে এ মেলায়।

ব্রেকিং নিউজঃ